নওগাঁ ০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার :
মহাদেবপুর দর্পণ.কম ও সাপ্তাহিক মহাদেবপুর দর্পণের পরীক্সষমূলক সম্প্রচারে আপনাকে স্বাগতম ## আপামর মেহনতি মানুষের অকুন্ঠ ভালোবাসায় সিক্ত নওগাঁর নিজস্ব পত্রিকা ## নওগাঁর ১১ উপজেলার সব খবর সবার আগে ## মহাদেবপুর দর্পণ একবার পড়ুন, ভালো না লাগলে আর পড়বেন না ## যেখানে অনিয়ম সেখানেই মহাদেবপুর দর্পণ ## যেখানে দূর্নীতি, অন্যায়, অবিচার সেখানেই মহাদেবপুর দর্পণ সব সময় সাধারণ মানুষের পাশে ## মহাদেবপুর দর্পণের ফেসবুক আইডিতে ফলো দিয়ে সঙ্গেই থাকি ##

সম্পাদকীয় : আন্দোলনে বিরোধীতাকারীদের শাস্তির আওতায় আনা হোক

মহাদেবপুর দর্পণ, মহাদেবপুর (নওগাঁ), ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ :

নওগাঁ জেলা বিএনপির অফিস ভাংচুরের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। কিন্তু তার সঙ্গীদের বিরুদ্ধে কোনই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। একই অপরাধ করে তারা কেউ কেউ প্রকাশ্যেই নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কেউ কেউ ভোল পাল্টিয়ে বিএনপি নেতাদের ছত্রছাঁয়ায় পুনর্বাসনের চেষ্টা করছেন। অথচ তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে বাধা দেয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, যেদিন নওগাঁ জেলা বিএনপির অফিস ভাংচুর করা হয়, সেদিন মহাদেবপুর থেকে একটি যাত্রীবাহী বাসযোগে তারা গিয়েছিলেন সেই অভিযানে। এর নেতৃত্বে ছিলেন একজন উঁচু চেয়ারম্যান, একজন ভাইস চেয়ারম্যান আর একজন নীচু চেয়ারম্যান। এরা সবাই এখন প্রকাশ্যে ঘুরছেন।

৪ আগষ্ট মহাদেবপুর বাসস্ট্যান্ডে ছাত্রজনতার সমাবেশ দ্রুত শেষ করতে বলে প্রকাশ্যে লাঠি নিয়ে এসে ভয় দেখিয়েছিলেন কয়েকজন। তারাও এখন প্রকাশ্যে।

রাতে আওয়ামী লীগ অফিসে বাঁশের লাঠি জমা করে রেখেছিলেন ওই চেয়ারম্যান। ৫ আগস্ট সকালে সেই লাঠিগুলো নিয়ে ছাত্রজনতার মিছিল বানচালের চেষ্টা করে কয়েকজন। ছাত্রজনতার ধাওয়ায় তারা পালিয়ে যান। তাদের কেউ কেউ আহতও হন। তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

৫ আগষ্ট বিকেলে ছাত্রজনতা আওয়ামী লীগ অফিসের দিকে গেলে কয়েকজন চিহ্নিত ফ্যাসিবাদের দোসর ভিডিও করতে যায়। ছাত্রজনতার ধাওয়া খেয়ে তারাও পালায়। এরাও এখন প্রকাশ্যে। তাদের বিরুদ্ধেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

১ জুলাই ছাত্রজনতার আন্দোলন শুরু হলেও ১৮ দিন মহাদেবপুরে এব্যাপারে কোন মিছিল মিটিং হয়নি। কিন্তু এসংক্রান্ত মিথ্যা মামলায় একের পর এক বিএনপি, জামাত এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নির্বিচারে আটক করা হয়েছে। কোন অপরাধ না করলেও রাজনৈতিক কারণে এদের তালিকা কারা তৈরি করেছে তা সবার জানা। তাদের কেউ এখনও আটক হয়নি।

১৮ জুলাই প্রথম ছাত্রছাত্রীরা মিছিল বের করে। পরদিন মিছিলের আয়োজনকারীদের আটক করা শুরু হয়। একজন ছাত্রী ফেসবুকে গ্রুপ খুলে শিক্ষার্থীদের সংগঠিত করে এই মিছিল করেছিলেন। তাকে আটক করে তার মোবইলফোন কেড়ে নিয়ে তাকে মানষিকভাবে টর্চার করা হয়েছে। মিছিল আয়োজকদের তালিকা কারা করেছে সেটাও সবাই জানেন। তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

ছাত্রজনতার আন্দোলন বাধাগ্রস্ত করতে কারা দিনের পর দিন ফেসবুকে পোষ্ট দিয়েছেন তাও সবার জানা। তারাও থেকে গেছে হিসেবের বাইরে। কিন্তু যারা আন্দোলনের স্বপক্ষে পোষ্ট দিয়েছেন তাদেরকে কিন্তু কোন ছাড় দেয়নি তারা। সুতরাং বাধাদানকারীদেরও শাস্তি দাবি করা অন্যায় হবেনা।

গত ১৬ বছর যারা বিভিন্ন সময় ফ্যাসিবাদের দেয়া মিথ্যা মামলায় আটক হয়ে মাসের পর মাস জেলে থেকেছেন, পালিয়ে থেকেছেন, তাদের তালিকা যেসব নেতা করেছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

বাংলামায়ের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তানেরা এখন দেশ পরিচালনায়। তাঁদের কাছেই তো ন্যায় বিচার আশা করা যায়।

—কাজী সাঈদ টিটো ২৮.৯.২৪

আপলোডকারীর তথ্য

সর্বোচ্চ পঠিত

সম্পাদকীয় : আন্দোলনে বিরোধীতাকারীদের শাস্তির আওতায় আনা হোক

প্রকাশের সময় : ০১:৪৬:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪

মহাদেবপুর দর্পণ, মহাদেবপুর (নওগাঁ), ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ :

নওগাঁ জেলা বিএনপির অফিস ভাংচুরের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। কিন্তু তার সঙ্গীদের বিরুদ্ধে কোনই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। একই অপরাধ করে তারা কেউ কেউ প্রকাশ্যেই নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কেউ কেউ ভোল পাল্টিয়ে বিএনপি নেতাদের ছত্রছাঁয়ায় পুনর্বাসনের চেষ্টা করছেন। অথচ তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে বাধা দেয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, যেদিন নওগাঁ জেলা বিএনপির অফিস ভাংচুর করা হয়, সেদিন মহাদেবপুর থেকে একটি যাত্রীবাহী বাসযোগে তারা গিয়েছিলেন সেই অভিযানে। এর নেতৃত্বে ছিলেন একজন উঁচু চেয়ারম্যান, একজন ভাইস চেয়ারম্যান আর একজন নীচু চেয়ারম্যান। এরা সবাই এখন প্রকাশ্যে ঘুরছেন।

৪ আগষ্ট মহাদেবপুর বাসস্ট্যান্ডে ছাত্রজনতার সমাবেশ দ্রুত শেষ করতে বলে প্রকাশ্যে লাঠি নিয়ে এসে ভয় দেখিয়েছিলেন কয়েকজন। তারাও এখন প্রকাশ্যে।

রাতে আওয়ামী লীগ অফিসে বাঁশের লাঠি জমা করে রেখেছিলেন ওই চেয়ারম্যান। ৫ আগস্ট সকালে সেই লাঠিগুলো নিয়ে ছাত্রজনতার মিছিল বানচালের চেষ্টা করে কয়েকজন। ছাত্রজনতার ধাওয়ায় তারা পালিয়ে যান। তাদের কেউ কেউ আহতও হন। তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

৫ আগষ্ট বিকেলে ছাত্রজনতা আওয়ামী লীগ অফিসের দিকে গেলে কয়েকজন চিহ্নিত ফ্যাসিবাদের দোসর ভিডিও করতে যায়। ছাত্রজনতার ধাওয়া খেয়ে তারাও পালায়। এরাও এখন প্রকাশ্যে। তাদের বিরুদ্ধেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

১ জুলাই ছাত্রজনতার আন্দোলন শুরু হলেও ১৮ দিন মহাদেবপুরে এব্যাপারে কোন মিছিল মিটিং হয়নি। কিন্তু এসংক্রান্ত মিথ্যা মামলায় একের পর এক বিএনপি, জামাত এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নির্বিচারে আটক করা হয়েছে। কোন অপরাধ না করলেও রাজনৈতিক কারণে এদের তালিকা কারা তৈরি করেছে তা সবার জানা। তাদের কেউ এখনও আটক হয়নি।

১৮ জুলাই প্রথম ছাত্রছাত্রীরা মিছিল বের করে। পরদিন মিছিলের আয়োজনকারীদের আটক করা শুরু হয়। একজন ছাত্রী ফেসবুকে গ্রুপ খুলে শিক্ষার্থীদের সংগঠিত করে এই মিছিল করেছিলেন। তাকে আটক করে তার মোবইলফোন কেড়ে নিয়ে তাকে মানষিকভাবে টর্চার করা হয়েছে। মিছিল আয়োজকদের তালিকা কারা করেছে সেটাও সবাই জানেন। তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

ছাত্রজনতার আন্দোলন বাধাগ্রস্ত করতে কারা দিনের পর দিন ফেসবুকে পোষ্ট দিয়েছেন তাও সবার জানা। তারাও থেকে গেছে হিসেবের বাইরে। কিন্তু যারা আন্দোলনের স্বপক্ষে পোষ্ট দিয়েছেন তাদেরকে কিন্তু কোন ছাড় দেয়নি তারা। সুতরাং বাধাদানকারীদেরও শাস্তি দাবি করা অন্যায় হবেনা।

গত ১৬ বছর যারা বিভিন্ন সময় ফ্যাসিবাদের দেয়া মিথ্যা মামলায় আটক হয়ে মাসের পর মাস জেলে থেকেছেন, পালিয়ে থেকেছেন, তাদের তালিকা যেসব নেতা করেছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

বাংলামায়ের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তানেরা এখন দেশ পরিচালনায়। তাঁদের কাছেই তো ন্যায় বিচার আশা করা যায়।

—কাজী সাঈদ টিটো ২৮.৯.২৪