নওগাঁ ০৩:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার :
মহাদেবপুর দর্পণ.কম ও সাপ্তাহিক মহাদেবপুর দর্পণের পরীক্সষমূলক সম্প্রচারে আপনাকে স্বাগতম ## আপামর মেহনতি মানুষের অকুন্ঠ ভালোবাসায় সিক্ত নওগাঁর নিজস্ব পত্রিকা ## নওগাঁর ১১ উপজেলার সব খবর সবার আগে ## মহাদেবপুর দর্পণ একবার পড়ুন, ভালো না লাগলে আর পড়বেন না ## যেখানে অনিয়ম সেখানেই মহাদেবপুর দর্পণ ## যেখানে দূর্নীতি, অন্যায়, অবিচার সেখানেই মহাদেবপুর দর্পণ সব সময় সাধারণ মানুষের পাশে ## মহাদেবপুর দর্পণের ফেসবুক আইডিতে ফলো দিয়ে সঙ্গেই থাকি ##

সম্পাদকীয় : বি পজিটিভ, ভালো থাকি, ভালো নিয়ে ভাবি, ভালো কাজে সহযোগিতা করি<<মহাদেবপুর দর্পণ>>

মহাদেবপুর দর্পণ :
আপনি খুব ভালো মানুষ, দাপুটে, ক্ষমতাবান, ভালো মানুষ হিসেবে সমাজে জায়গা করে নিয়েছেন, ভালো কাজতো অবশ্যই করতে হবে, আপনাকেই। দেখা হলে মানুষ আপনাকে সালাম ঠোকে, এর মানেই যে তারা আপনাকে ভালো জানে, তা নয়। আসলে ভালোর সংজ্ঞা আমরা কজন জানি? মানুষ যখন জিজ্ঞাসা করে ভালো আছেন? আমরা নির্দিধায় বলি ইনশ্আল্লাহ ভালো। মানে কি? রাত না আসলে দিনের আলোকে আমরা চিনতাম না। মানে দিনটা রাতের তুলনায় ভালো। তাহলে ভালো থাকাটা কিসের চেয়ে ভালো? নি:সন্দেহে কষ্টের চেয়ে। যার কোন কষ্টই নেই, তার তাহলে ভালোটা বোঝার বা তুলনা করার বিষয়টি কি হবে? মানুষের ভালো থাকাটা আপেক্ষিক।

কষ্টে থাকেন হতাশাবাদীরা। তারা কোন কিছুতেই ভালো দেখতে পান না। আমার এক সাংবাদিক বন্ধু যে কোন লেখা পড়লেই সেখানে ভূল ধরার চেষ্টা করেন। কিছু না পেলে কোথাও দাঁড়ি, কমা না থাকলেই তা ভূল বলে প্রমাণ করেন। রাগ করে বলি ভালোটাতো তোমার চোখেই পড়েনা। কোন কিছুতে আগে দেখতে হয় তার ভালোটা। কেউ কোন ভালো কাজ করলে সাংবাদিক হিসেবে আগে সেই ভালোটা তুলে ধরতে হবে। পাশাপাশি খারাপটাও। তবে মানুষ নিগেটিভ বিষয় বেশি পছন্দ করেন। পাঠকও। তাই নিউজে নিগেটিভটাই আগে আসে। কিন্তু যদি শুধু নিগেটিভটাকেই রঙ মাখিয়ে চাউর করি, তবে সেটা বস্তুনিষ্ঠ হবেনা, নিরপেক্ষ হবেনা, পাঠক সমাদৃত হবেনা। পাঠকরা আজ আর বোকা নন। আপনার আমার চেয়ে অনেক সচেতন। আপনি কি লিখলেন, আপনার লেখাতে কি বোঝাতে চেয়েছেন, আপনি কোন দিকে ভর করেছেন এটা সহজেই বুঝে ফেলেন পাঠক। সুতরাং ভালো হতে হলে আগে অবশ্যই আপনাকে নিরপেক্ষ হতে হবে। আমরা যদি কাউকে ক্লায়েন্ট ভাবি, তাহলে তার ভালোটা কখনোই চোখে পড়বেনা।

যা ঘটছে, আমরা যদি তার কিয়দংশ লিখি, তবে সেটা পোক্ত হবেনা, বস্তুনিষ্ঠ হবেনা, গ্রহণযোগ্য হবেনা। আমরা শুধু ঘটনার এপিঠ দেখবো, ওপিঠ দেখবোনা, তাহলেতো চলবেনা। এরকম চলতে থাকলে সমাজ কখন যে লাথি মারবে, তা কেউ বলতে পারবেন না। আসলে আমরা ভালো কাজগুলোকে মনে রাখি না। একজন সারাজীবন ভালো কাজ করে গেলেও অনেক সময় তার মূল্যায়ন হয়না। কিন্তু একটি বিতর্কীত কাজ করলে সেটাকেই আমরা তার চরিত্রের বৈশিষ্ট বলে প্রচার করি। হাজারো ভালো কাজের একটি নিয়েও যে কোনদিন লেখেনি, আলোচনা করেনি, সেও ওই একটি বিতর্কীত কাজকে পুঁজি করে টেবিল ট্যকে ব্যস্ত। এতে কাজ করার স্পৃহা কমে, ভালো কাজ করার মানষিকতা হারায়, সমাজের প্রতি বিতৃষ্ণা জন্মায়।

ভালোকে ভালো বলা যায়। কিন্তু আমরা বলিনা। আসলে আমরা বলতে শিখিইনি। শিখতে হবে, বলতে হবে। সমাজের প্রতি আমাদের দায় আছে। ধরি, প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে দু:স্থদের মধ্যে পাঁচ হাজার গাভী দেয়া হয়েছে। কিন্তু গাভীগুলো রুগ্ন। আমরা যদি প্রথমটা না লিখে শুধু ‘রুগ্ন গাভী বিতরণ’ এটা লিখি তাহলে কি নিরপেক্ষ হবে? ‘পাাঁচ হাজার গাভী বিতরণ’ এটা উন্নয়ন। এটাই আগে লিখতে হবে। আর ‘রুগ্ন গাভী’ এটা দূর্নীতি। উন্নয়ন করতে গিয়েই তো দূর্নীতি হয়। তাহলে শুধু দূর্নীতি কেন লিখবো? একটা প্রতিষ্ঠান একশ’টা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করলো। একটাতে কিছু অনিয়ম হলো। সব তথ্য নিয়ে উন্নয়নগুলো বাদ দিয়ে শুধু অনিয়মটা লিখলেতো মানুষ হতাশ হবেই। যে অনিয়ম অনিচ্ছাকৃত এবং নিয়মিতকরণযোগ্য সেখানে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে হবে। যদি কোন প্রকল্পে ইচ্ছাকৃতভাবে আত্মসাতের উদ্দেশ্যে দূর্নীতি করা হয়, তবে অবশ্যই আমাদের তা লিখতে হবে, প্রতিবাদ করতে হবে, সেরকম ক্ষেত্রে ছাড় নাই এতটুকুও।

মানুষের ভালো দিকগুলো তুলে এনে পজিটিভ সাংবাদিকতার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে মহাদেবপুর দর্পণ। এটাকে তো পাঠক খুব ভালোভাবে নিয়েছেন বলেই মনে হয়। যারা সবকিছুতেই নিগেটিভ খোঁজেন তারা ভালো দিকটা জানতেই পারেননা। সেদিক থেকেই পাঠক মহাদেবপুর দর্পণকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। কিন্তু নিন্দুকেরা স্বভাবসুলভভাবে, শুধুমাত্র বিরোধীতার খাতিরে এটাকে বলতে পারেন তেলবাজী। প্রকৃতপক্ষে কোনটা তেলবাজী আর কোনটা নিরপেক্ষ সেটা পাঠকরা অবশ্যই বোঝেন। একটা মানুষকে আমরা সবাই যদি ভালো বলি, তবে তার কোন নিগেটিভ সাইড থাকলেও তিনি তা পরিহার করতে বাধ্য। আর মানুষ যদি আমাকে পজিটিভ ভাবেন তবে মানষিকভাবে তিনিও ভালো থাকবেন, আমিও। তাই ভালোকে ভালো বলা শিখতে হবে। শিখতেই হবে। সো, বি পজিটিভ, ভালো থাকি, ভালো নিয়ে ভাবি, ভালো কাজে সহযোগিতা করি।—কাজী সাঈদ টিটো ৯.১০.২০২৩

আপলোডকারীর তথ্য

সর্বোচ্চ পঠিত

সম্পাদকীয় : বি পজিটিভ, ভালো থাকি, ভালো নিয়ে ভাবি, ভালো কাজে সহযোগিতা করি<<মহাদেবপুর দর্পণ>>

প্রকাশের সময় : ০৮:৩৫:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৩

মহাদেবপুর দর্পণ :
আপনি খুব ভালো মানুষ, দাপুটে, ক্ষমতাবান, ভালো মানুষ হিসেবে সমাজে জায়গা করে নিয়েছেন, ভালো কাজতো অবশ্যই করতে হবে, আপনাকেই। দেখা হলে মানুষ আপনাকে সালাম ঠোকে, এর মানেই যে তারা আপনাকে ভালো জানে, তা নয়। আসলে ভালোর সংজ্ঞা আমরা কজন জানি? মানুষ যখন জিজ্ঞাসা করে ভালো আছেন? আমরা নির্দিধায় বলি ইনশ্আল্লাহ ভালো। মানে কি? রাত না আসলে দিনের আলোকে আমরা চিনতাম না। মানে দিনটা রাতের তুলনায় ভালো। তাহলে ভালো থাকাটা কিসের চেয়ে ভালো? নি:সন্দেহে কষ্টের চেয়ে। যার কোন কষ্টই নেই, তার তাহলে ভালোটা বোঝার বা তুলনা করার বিষয়টি কি হবে? মানুষের ভালো থাকাটা আপেক্ষিক।

কষ্টে থাকেন হতাশাবাদীরা। তারা কোন কিছুতেই ভালো দেখতে পান না। আমার এক সাংবাদিক বন্ধু যে কোন লেখা পড়লেই সেখানে ভূল ধরার চেষ্টা করেন। কিছু না পেলে কোথাও দাঁড়ি, কমা না থাকলেই তা ভূল বলে প্রমাণ করেন। রাগ করে বলি ভালোটাতো তোমার চোখেই পড়েনা। কোন কিছুতে আগে দেখতে হয় তার ভালোটা। কেউ কোন ভালো কাজ করলে সাংবাদিক হিসেবে আগে সেই ভালোটা তুলে ধরতে হবে। পাশাপাশি খারাপটাও। তবে মানুষ নিগেটিভ বিষয় বেশি পছন্দ করেন। পাঠকও। তাই নিউজে নিগেটিভটাই আগে আসে। কিন্তু যদি শুধু নিগেটিভটাকেই রঙ মাখিয়ে চাউর করি, তবে সেটা বস্তুনিষ্ঠ হবেনা, নিরপেক্ষ হবেনা, পাঠক সমাদৃত হবেনা। পাঠকরা আজ আর বোকা নন। আপনার আমার চেয়ে অনেক সচেতন। আপনি কি লিখলেন, আপনার লেখাতে কি বোঝাতে চেয়েছেন, আপনি কোন দিকে ভর করেছেন এটা সহজেই বুঝে ফেলেন পাঠক। সুতরাং ভালো হতে হলে আগে অবশ্যই আপনাকে নিরপেক্ষ হতে হবে। আমরা যদি কাউকে ক্লায়েন্ট ভাবি, তাহলে তার ভালোটা কখনোই চোখে পড়বেনা।

যা ঘটছে, আমরা যদি তার কিয়দংশ লিখি, তবে সেটা পোক্ত হবেনা, বস্তুনিষ্ঠ হবেনা, গ্রহণযোগ্য হবেনা। আমরা শুধু ঘটনার এপিঠ দেখবো, ওপিঠ দেখবোনা, তাহলেতো চলবেনা। এরকম চলতে থাকলে সমাজ কখন যে লাথি মারবে, তা কেউ বলতে পারবেন না। আসলে আমরা ভালো কাজগুলোকে মনে রাখি না। একজন সারাজীবন ভালো কাজ করে গেলেও অনেক সময় তার মূল্যায়ন হয়না। কিন্তু একটি বিতর্কীত কাজ করলে সেটাকেই আমরা তার চরিত্রের বৈশিষ্ট বলে প্রচার করি। হাজারো ভালো কাজের একটি নিয়েও যে কোনদিন লেখেনি, আলোচনা করেনি, সেও ওই একটি বিতর্কীত কাজকে পুঁজি করে টেবিল ট্যকে ব্যস্ত। এতে কাজ করার স্পৃহা কমে, ভালো কাজ করার মানষিকতা হারায়, সমাজের প্রতি বিতৃষ্ণা জন্মায়।

ভালোকে ভালো বলা যায়। কিন্তু আমরা বলিনা। আসলে আমরা বলতে শিখিইনি। শিখতে হবে, বলতে হবে। সমাজের প্রতি আমাদের দায় আছে। ধরি, প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে দু:স্থদের মধ্যে পাঁচ হাজার গাভী দেয়া হয়েছে। কিন্তু গাভীগুলো রুগ্ন। আমরা যদি প্রথমটা না লিখে শুধু ‘রুগ্ন গাভী বিতরণ’ এটা লিখি তাহলে কি নিরপেক্ষ হবে? ‘পাাঁচ হাজার গাভী বিতরণ’ এটা উন্নয়ন। এটাই আগে লিখতে হবে। আর ‘রুগ্ন গাভী’ এটা দূর্নীতি। উন্নয়ন করতে গিয়েই তো দূর্নীতি হয়। তাহলে শুধু দূর্নীতি কেন লিখবো? একটা প্রতিষ্ঠান একশ’টা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করলো। একটাতে কিছু অনিয়ম হলো। সব তথ্য নিয়ে উন্নয়নগুলো বাদ দিয়ে শুধু অনিয়মটা লিখলেতো মানুষ হতাশ হবেই। যে অনিয়ম অনিচ্ছাকৃত এবং নিয়মিতকরণযোগ্য সেখানে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে হবে। যদি কোন প্রকল্পে ইচ্ছাকৃতভাবে আত্মসাতের উদ্দেশ্যে দূর্নীতি করা হয়, তবে অবশ্যই আমাদের তা লিখতে হবে, প্রতিবাদ করতে হবে, সেরকম ক্ষেত্রে ছাড় নাই এতটুকুও।

মানুষের ভালো দিকগুলো তুলে এনে পজিটিভ সাংবাদিকতার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে মহাদেবপুর দর্পণ। এটাকে তো পাঠক খুব ভালোভাবে নিয়েছেন বলেই মনে হয়। যারা সবকিছুতেই নিগেটিভ খোঁজেন তারা ভালো দিকটা জানতেই পারেননা। সেদিক থেকেই পাঠক মহাদেবপুর দর্পণকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। কিন্তু নিন্দুকেরা স্বভাবসুলভভাবে, শুধুমাত্র বিরোধীতার খাতিরে এটাকে বলতে পারেন তেলবাজী। প্রকৃতপক্ষে কোনটা তেলবাজী আর কোনটা নিরপেক্ষ সেটা পাঠকরা অবশ্যই বোঝেন। একটা মানুষকে আমরা সবাই যদি ভালো বলি, তবে তার কোন নিগেটিভ সাইড থাকলেও তিনি তা পরিহার করতে বাধ্য। আর মানুষ যদি আমাকে পজিটিভ ভাবেন তবে মানষিকভাবে তিনিও ভালো থাকবেন, আমিও। তাই ভালোকে ভালো বলা শিখতে হবে। শিখতেই হবে। সো, বি পজিটিভ, ভালো থাকি, ভালো নিয়ে ভাবি, ভালো কাজে সহযোগিতা করি।—কাজী সাঈদ টিটো ৯.১০.২০২৩