
মহাদেবপুর দর্পণ, কাজী সাঈদ টিটো, নওগাঁ, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪ :
আগামী তিন দিনের মধ্যে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে নওগাঁর পত্মীতলায় সাংবাদিকের গলায় জুতোর মালা জড়িয়ে অপদস্ত করার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে নিরপেক্ষ বিচারের দাবি করেছে মফস্বল সাংবাদিকদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কাজ করা একমাত্র জাতীয় সংগঠন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম বিএমএসএফ। একই সাথে বিএমএসএফের কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ঢাকা থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর বলেন, ‘এ অপমান গোটা সাংবাদিক সমাজের। আমরা আশা করছি বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে নওগাঁর পত্নীতলার এ ঘটনাটি আগামী তিন দিনের মধ্যে তদন্ত করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনা হবে। একই সাথে আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে গঠিত তদন্ত কমিটিও ঘটনাটি সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করবেন।’
উল্লেখ্য, শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নওগাঁর পত্মীতলায় দৈনিক স্বদেশ প্রতিদিনের সাংবাদিক মাহমুদুন নবী ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনিয়ম তুলে ধরায় রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে ক্লিনিকের মধ্যে আটকে রেখে জোরপূর্বক স্টাম্পে সাক্ষর নিয়ে, গলায় জুতার মালা জড়িয়ে এবং ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনিয়মের অভিযোগ সঠিক নয় এমন বক্তব্য দিয়ে ফেসবুকে লাইভ করাতে বাধ্য করা হয়েছে, যা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে।
হেনস্থার শিকার সাংবাদিক মাহমুদুন নবী রোববার (৮ সেপ্টেম্বর) বিএমএসএফকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় অভিযোগ করে বলেন, ‘বগুড়া শ্বশুর বাড়ি থেকে গীতা পরিবহণের একটি যাত্রীবাহী বাসে করে আমি নজিপুর বাসস্ট্যান্ডে নামি। বিকেলে ৫ টার দিকে গাড়ি থেকে নেমে সিটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার বাসস্ট্যান্ডে গোল চত্বরে যাই। সেখানে সিটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক হারম্নণ অর রশিদ এর সাথে চা খেতে আমন্ত্রণ করেন। হঠাৎ ডা. সবুর এসে বলে, ‘আজ তোকে খেয়ে ফেলবো।’ তখন আমি বললাম, ‘ভাই আমার বিরম্নদ্ধে কোন অভিযোগ থাকলে আপনি মামলা করেন, মারবেন কেনো!’ এই কথা শেষ না করতেই টেনে হিচড়ে সিটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভিতরে নিয়ে যায়। সেখানে কয়েকজন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক এসে এতোপাতাড়ি কিলঘুষি মারতে শুরম্ন করে। তারা বলে, ‘তুই আজ থেকে আর সাংবাদিকতা করবি না বলে স্ট্যাম্পে সাক্ষর করবি এবং ফেসবুকে লাইভে গিয়ে বলবি তুই চাঁদাবাজি করিস।’ আমি রাজি না হলে আমাকে আবারো মারধর করে এবং দেশীয় অস্ত্রের মুখে আমাকে স্ট্যাম্পে সাক্ষর করায়, আমার ফেসবুক আইডি থেকে লাইভ করায়। পরে জুতার মালা আমার গলায় পড়িয়ে দিয়ে ফটোশুট করা হয়। পরবর্তীতে পুলিশ আসলে আমার বিরম্নদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে এর প্রমাণ চাইলে কেউ দিতে পারেনি। তখন পুলিশ নিরাপত্তা দিয়ে আমাকে বের করে নিয়ে যায়। তাদের মারধরে আমি আহত হলে প্রাণভয়ে বগুড়ায় পালিয়ে গিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেই। আমার ওপর হামলা এবং অপমান অপদস্তের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।
