নওগাঁ ০৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার :
মহাদেবপুর দর্পণ.কম ও সাপ্তাহিক মহাদেবপুর দর্পণের পরীক্সষমূলক সম্প্রচারে আপনাকে স্বাগতম ## আপামর মেহনতি মানুষের অকুন্ঠ ভালোবাসায় সিক্ত নওগাঁর নিজস্ব পত্রিকা ## নওগাঁর ১১ উপজেলার সব খবর সবার আগে ## মহাদেবপুর দর্পণ একবার পড়ুন, ভালো না লাগলে আর পড়বেন না ## যেখানে অনিয়ম সেখানেই মহাদেবপুর দর্পণ ## যেখানে দূর্নীতি, অন্যায়, অবিচার সেখানেই মহাদেবপুর দর্পণ সব সময় সাধারণ মানুষের পাশে ## মহাদেবপুর দর্পণের ফেসবুক আইডিতে ফলো দিয়ে সঙ্গেই থাকি ##

মহাদেবপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে ইউএনও আরিফুজ্জামান যা বললেন-

মহাদেবপুর দর্পণ, মহাদেবপুর (নওগাঁ), ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ : বক্তব্য দেন নবাগত ইউএনও মো: আরিফুজ্জামান---ছবি : কাজী রওশন জাহান

মহাদেবপুর দর্পণ, কাজী সাঈদ টিটো, মহাদেবপুর (নওগাঁ), ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ :

নওগাঁর মহাদেবপুরে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: আরিফুজ্জামান মতবিনিময় করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টায় তিনি তার সভাকক্ষ শাপলায় এর আয়োজন করেন।

অন্যদের মধ্যে সিনিয়র সাংবাদিক কাজী সাঈদ টিটো, কাজী সামছুজ্জোহা মিলন, কাজী রওশন জাহান, ইউসুফ আলী সুমন, সোহেল রানা, হাজী সাইফুর রহমান সনি, লিয়াকত আলী বাবলু, সাজ্জাদ হোসেন, এস, এম, আজাদ হোসেন মুরাদ, মিজানুর রহমান মানিক, মাহবুব আলী, রশিদুল ইসলাম রশিদ, সুইট হোসেন, আককাস আলী, বরুণ মজুমদার, আমিনুর রহমান খোকন, খোরশেদ আলম, গোলাম রসুল বাবু, সাখাওয়াত হোসেন, সুমন কুমার বুলেট, অসিত দাস, মো: আব্দুল্লাহ, রফিকুল ইসলাম, রুবেল হোসেন, এবি সিদ্দিক, আইনুল হোসেন, মোখলেছুর রহমান, আব্দুল আজিজ, ওয়াসিম আলী, সুজন, এস, এম, শামীম হাসান প্রমুখ এতে অংশ নেন।

পরিচয় পর্ব শেষে ইউএনও সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন। তিনি জানান, গত মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) তিনি মহাদেবপুর উপজেলায় যোগদান করেন। এরআগে তিনি সাতক্ষিরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টরেট আরডিসি পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি ৩৪ তম বিসিএস ক্যাডার। তাঁর দেশের বাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলায়।

ইউএনও বলেন, ‘গণমাধ্যম হলো রাষ্ট্রের দর্পণ। দর্পণের সামনে আমি যেভাবে দাঁড়াবো, সেভাবেই আমাকে দেখা যাবে। সুতরাং যে যেরকম, সংবাদপত্রে তাকে যেন সেরকমভাবেই প্রকাশ করা হয়। আমি নিজেও যদি কোন অন্যায় করি তাহলেও আপনারা নির্ভয়ে সেটা লেখবেন।’

ইউএনও মো: আরিফুজ্জামান আরো বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এই সরকার গঠিত হয়েছে। এরা রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে সংস্কার করছেন। আপনারাও আপনাদের লেখনির মাধ্যমে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার করবেন। আপনারা যে কোন সময় যে কোন বিষয়ে আমার কাছে বলবেন। আমি অবশ্যই আপনাদেরকে সহযোগীতা করবো।’ তিনি বলেন, ‘কলেজে পড়ার সময় আমরা একটি বিষয়ে আন্দোলন করেছিলেন। কয়েকজন সাংবাদিক সেখানে উপস্থিত ছিলেন। পরদিন খবরের কাগজে ছাপা হলো আমরা নাকি গাড়ি ভাংচুর করেছি। কিন্তু সেরকম কোন ঘটনাই আমরা ঘটাইনি। এরকম ভূল সংবাদ লেখা সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে।’

ইউএনও বলেন, ‘বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমি আপনাদের পরামর্শ চাই। আমারও ভূল হতে পারে। সেটা আমাকে ধরিয়ে দিলে সংশোধন করতে পারবো। আমার উপজেলা পরিষদের কেউ অন্যায় করলে আমাকে জানাবেন। আমি সমাধান করে দিবো। যদি সমাধান না হয়, তখন অবশ্যই লিখবেন। কোন কোন ঘটনা না লিখেও সমাধান করা যায়। আর কোনক্রমেই যেন কারো বিরম্নদ্ধে ভূল কিছু লেখা না হয়। কোন অনিয়মের খবর পেলে তা ভালো করে যাচাই করে লিখবেন। আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন আমার পক্ষ থেকে কখনো কোন অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়া হবেনা। যেখানে যা কিছু ঘটছে, আপনারা আমাকে বিভিন্নভাবে তথ্য দিয়ে সহযোগীতা করবেন। আমি সবার সহযোগীতা কামনা করছি। এখানকার পরিবেশ যেন ভালো থাকে, আইন-শৃঙ্খলা যাতে ভালো থাকে, সেব্যাপারে আমাকে সর্বতো সহযোগীতা করবেন।’

এপর্যায়ে জোহরের নামাজের সময় হওয়ায় তিনি শুধুমাত্র একজন সাংবাদিকের কথা শুনতে চান। সিনিয়র সাংবাদিক কাজী সাঈদ টিটো এসময় তিনটি সুপারিশমালা পেশ করেন। এক. পেশাদার সাংবাদিকদের সহযোগীতা করতে হবে। যারা খবর না লিখেই নিজেদের সাংবাদিক দাবি করেন তাদেরকে সহযোগীতা করা যাবেনা। দুই. গত ১৬ বছর সেসব সাংবাদিক বঞ্চিত থেকেছেন, তাদেরকে সহযোগীতা করতে হবে। যারা সুবিধা পেয়েছে, তাদেরকে কম সুবিধা দিতে হবে এবং তিন. ছাত্র জনতার আন্দোলনে যেসব সাংবাদিক বিভিন্নভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে, বাধা দিয়েছে, তারা যেন কোন সহযোগীতা না পায়, আর যেসব সাংবাদিক আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন, পালিয়ে থেকেছেন, মামলা, হামলার শিকার হয়েছেন, জেল খেটেছেন তারা যেন সব রকম সুবিধা পান।

এসময় সাংবাদিক ইউসুফ আলী সুমন দাবি করেন যে, ফ্যাসিবাদের যারা দোসর আছে এদের কঠোর হাতে প্রতিরোধ করতে হবে।

ইউএনও প্রমাণসহ সেসব সাংবাদিকের তালিকা তার কাছে দিতে বলেন। তিনি অবশ্যই এই তিনটি সুপারিশ বাস্তবায়ন করবেন বলে আশ্বাস দেন।

আপলোডকারীর তথ্য

সর্বোচ্চ পঠিত

মহাদেবপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে ইউএনও আরিফুজ্জামান যা বললেন-

প্রকাশের সময় : ০৮:৪৯:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৪

মহাদেবপুর দর্পণ, কাজী সাঈদ টিটো, মহাদেবপুর (নওগাঁ), ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ :

নওগাঁর মহাদেবপুরে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: আরিফুজ্জামান মতবিনিময় করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টায় তিনি তার সভাকক্ষ শাপলায় এর আয়োজন করেন।

অন্যদের মধ্যে সিনিয়র সাংবাদিক কাজী সাঈদ টিটো, কাজী সামছুজ্জোহা মিলন, কাজী রওশন জাহান, ইউসুফ আলী সুমন, সোহেল রানা, হাজী সাইফুর রহমান সনি, লিয়াকত আলী বাবলু, সাজ্জাদ হোসেন, এস, এম, আজাদ হোসেন মুরাদ, মিজানুর রহমান মানিক, মাহবুব আলী, রশিদুল ইসলাম রশিদ, সুইট হোসেন, আককাস আলী, বরুণ মজুমদার, আমিনুর রহমান খোকন, খোরশেদ আলম, গোলাম রসুল বাবু, সাখাওয়াত হোসেন, সুমন কুমার বুলেট, অসিত দাস, মো: আব্দুল্লাহ, রফিকুল ইসলাম, রুবেল হোসেন, এবি সিদ্দিক, আইনুল হোসেন, মোখলেছুর রহমান, আব্দুল আজিজ, ওয়াসিম আলী, সুজন, এস, এম, শামীম হাসান প্রমুখ এতে অংশ নেন।

পরিচয় পর্ব শেষে ইউএনও সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন। তিনি জানান, গত মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) তিনি মহাদেবপুর উপজেলায় যোগদান করেন। এরআগে তিনি সাতক্ষিরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টরেট আরডিসি পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি ৩৪ তম বিসিএস ক্যাডার। তাঁর দেশের বাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলায়।

ইউএনও বলেন, ‘গণমাধ্যম হলো রাষ্ট্রের দর্পণ। দর্পণের সামনে আমি যেভাবে দাঁড়াবো, সেভাবেই আমাকে দেখা যাবে। সুতরাং যে যেরকম, সংবাদপত্রে তাকে যেন সেরকমভাবেই প্রকাশ করা হয়। আমি নিজেও যদি কোন অন্যায় করি তাহলেও আপনারা নির্ভয়ে সেটা লেখবেন।’

ইউএনও মো: আরিফুজ্জামান আরো বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এই সরকার গঠিত হয়েছে। এরা রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে সংস্কার করছেন। আপনারাও আপনাদের লেখনির মাধ্যমে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার করবেন। আপনারা যে কোন সময় যে কোন বিষয়ে আমার কাছে বলবেন। আমি অবশ্যই আপনাদেরকে সহযোগীতা করবো।’ তিনি বলেন, ‘কলেজে পড়ার সময় আমরা একটি বিষয়ে আন্দোলন করেছিলেন। কয়েকজন সাংবাদিক সেখানে উপস্থিত ছিলেন। পরদিন খবরের কাগজে ছাপা হলো আমরা নাকি গাড়ি ভাংচুর করেছি। কিন্তু সেরকম কোন ঘটনাই আমরা ঘটাইনি। এরকম ভূল সংবাদ লেখা সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে।’

ইউএনও বলেন, ‘বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমি আপনাদের পরামর্শ চাই। আমারও ভূল হতে পারে। সেটা আমাকে ধরিয়ে দিলে সংশোধন করতে পারবো। আমার উপজেলা পরিষদের কেউ অন্যায় করলে আমাকে জানাবেন। আমি সমাধান করে দিবো। যদি সমাধান না হয়, তখন অবশ্যই লিখবেন। কোন কোন ঘটনা না লিখেও সমাধান করা যায়। আর কোনক্রমেই যেন কারো বিরম্নদ্ধে ভূল কিছু লেখা না হয়। কোন অনিয়মের খবর পেলে তা ভালো করে যাচাই করে লিখবেন। আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন আমার পক্ষ থেকে কখনো কোন অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়া হবেনা। যেখানে যা কিছু ঘটছে, আপনারা আমাকে বিভিন্নভাবে তথ্য দিয়ে সহযোগীতা করবেন। আমি সবার সহযোগীতা কামনা করছি। এখানকার পরিবেশ যেন ভালো থাকে, আইন-শৃঙ্খলা যাতে ভালো থাকে, সেব্যাপারে আমাকে সর্বতো সহযোগীতা করবেন।’

এপর্যায়ে জোহরের নামাজের সময় হওয়ায় তিনি শুধুমাত্র একজন সাংবাদিকের কথা শুনতে চান। সিনিয়র সাংবাদিক কাজী সাঈদ টিটো এসময় তিনটি সুপারিশমালা পেশ করেন। এক. পেশাদার সাংবাদিকদের সহযোগীতা করতে হবে। যারা খবর না লিখেই নিজেদের সাংবাদিক দাবি করেন তাদেরকে সহযোগীতা করা যাবেনা। দুই. গত ১৬ বছর সেসব সাংবাদিক বঞ্চিত থেকেছেন, তাদেরকে সহযোগীতা করতে হবে। যারা সুবিধা পেয়েছে, তাদেরকে কম সুবিধা দিতে হবে এবং তিন. ছাত্র জনতার আন্দোলনে যেসব সাংবাদিক বিভিন্নভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে, বাধা দিয়েছে, তারা যেন কোন সহযোগীতা না পায়, আর যেসব সাংবাদিক আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন, পালিয়ে থেকেছেন, মামলা, হামলার শিকার হয়েছেন, জেল খেটেছেন তারা যেন সব রকম সুবিধা পান।

এসময় সাংবাদিক ইউসুফ আলী সুমন দাবি করেন যে, ফ্যাসিবাদের যারা দোসর আছে এদের কঠোর হাতে প্রতিরোধ করতে হবে।

ইউএনও প্রমাণসহ সেসব সাংবাদিকের তালিকা তার কাছে দিতে বলেন। তিনি অবশ্যই এই তিনটি সুপারিশ বাস্তবায়ন করবেন বলে আশ্বাস দেন।