নওগাঁ ০৯:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার :
মহাদেবপুর দর্পণ.কম ও সাপ্তাহিক মহাদেবপুর দর্পণের পরীক্সষমূলক সম্প্রচারে আপনাকে স্বাগতম ## আপামর মেহনতি মানুষের অকুন্ঠ ভালোবাসায় সিক্ত নওগাঁর নিজস্ব পত্রিকা ## নওগাঁর ১১ উপজেলার সব খবর সবার আগে ## মহাদেবপুর দর্পণ একবার পড়ুন, ভালো না লাগলে আর পড়বেন না ## যেখানে অনিয়ম সেখানেই মহাদেবপুর দর্পণ ## যেখানে দূর্নীতি, অন্যায়, অবিচার সেখানেই মহাদেবপুর দর্পণ সব সময় সাধারণ মানুষের পাশে ## মহাদেবপুর দর্পণের ফেসবুক আইডিতে ফলো দিয়ে সঙ্গেই থাকি ##

নিয়ামতপুরে কুন্তইল মসজিদের জমি আত্মসাৎ : মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি<মহাদেবপুর দর্পণ>>

মহাদেবপুর দর্পণ, তোফাজ্জল হোসেন, নিয়ামতপুর (নওগাঁ), ১৩ জুলাই ২০২১ :

মসজিদকে জমি দান করেন পূর্বপুরুষ। সেই জমি এসএ ও আরএস রেকর্ডভুক্তও হয় মসজিদের নামে। অথচ তারই ওয়ারিশরা এখন সেই জমি আত্মসাৎ করার চেষ্টা করছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে পুরো গ্রামবাসীকে হয়রানীর করা হচ্ছে। এমনটাই অভিযোগ পাওয়া গেছে উপজেলার হাজিনগর ইউনিয়নের কুন্তইল গ্রামে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, কুন্তইল জামে মসজিদের নামে নন্দীগ্রাম, পাঁচপুকুরিয়া ও চিনড়া মৌজায় ৮১, ১৭ ও ৫০ নম্বর খতিয়ানে ৫ একর ২৩ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় সাড়ে ১৭ বিঘা জমি এসএ এবং আরএস রেকর্ডভুক্ত হয়। জিম্মাদার হিসাবে দায়িত্বে থাকেন মৃত হাজি মাবুদ বক্স ও তার স্ত্রী কছিরন।

মসজিদটি ১৯৩৫ সালে নির্মাণ করা হয়। সেই থেকে ২০২১ সালের মে মাস পর্যন্ত প্রথমে মাবুদ বক্স, পরবর্তীতে তাঁর ছেলে আব্দুল জব্বার, আকবর আলী, সামাদ মন্ডল ও ইসমাইল মসজিদের দায়িত্ব পালন করেন। এর পর আকবর আলীর ছেলে সালাম ও ইসমাইল হোসেনের ছেলে জালাল ২০০৪ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৪ সাল থেকে ২০২১ সালের মে মাস পর্যন্ত সামাদ মন্ডলের ছেলে আসাদুজ্জামান স্টার সভাপতি ও আব্দুর জব্বারের ছেলে প্রভাষক মিজানুর রহমান বাবু সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। অর্থাৎ মসজিদ সৃষ্টি হতে ২০২১ সালের মে মাস পর্যন্ত জমিদাতা মাবুদ বক্সের ছেলে ও নাতিরাই মসজিদ পরিচালনা করে আসছিলেন। সেই সুযোগে তারা জমি দখলের জন্য প্রথমে আদালতে রেকর্ড সংশোধনীর মামলা দায়ের করলে আদালত তা খারিজ করেন।

পরবর্তীতে ২০০৮ সালে ২৬৭, ২৬৮, ২৬৯ নম্বর তিনটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার প্রেক্ষিতে ২০১০ সালে, ২০১১ সালে ও ২০১৪ সালে সভাপতি আসাদুজ্জামান স্টার ও সম্পাদক মিজানুর রহমান বাবু থাকা সত্ত্বেও তারা বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে নিজেরাই বাদী এবং বিবাদী সেজে ভূয়া সোলেনামা দাখিল করে আদালতে ডিক্রি নেন।

এ বিষয়ে বর্তমান মসজিদ কমিটির সভাপতি মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে তাইজুল ইসলাম বলেন, গ্রামবাসী আসাদুজ্জামান স্টার ও মিজানুর রহমান বাবুর কাছ থেকে এক বছর যাবত মসজিদের হিসাব চাইলে তারা টালবাহানা করে। এতে গ্রামবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের বাদ দিয়ে আমাকে সভাপতি ও আব্দুল হান্নানকে সম্পাদক করে নতুন কমিটি গঠন করেন। আমরা দায়িত্ব পাবার পর মসজিদের জমির সন্ধান করতে গেলে এই সমস্ত অনিয়ম ধরা পড়ে। তারা মসজিদের বেশ কিছু জমি অবৈধভাবে বিক্রি করে দেন।

বিক্রি করা জমির উপর তারা বসতবাড়ী পর্যন্ত নির্মান করে নিয়েছে। আমরা জমির কাগজপত্র সংগ্রহ করি ও মসজিদ কমিটির পক্ষ হতে জমিতে ধান রোপন করি। এতে গ্রামবাসীকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে সম্প্রদায়িক পরিস্থিতি সৃষ্টি করার জন্য একটি হিন্দু ব্যক্তিকে দিয়ে ৩৭ জনকে আসামী করে লুটপাট ও টাকা ছিনতাইয়ের একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে। আমাদের একজনকে পুলিশ ১১ জুলাই রাতে আটক করলে আমরা গ্রামবাসী সবাই রাতে থানায় গিয়ে হাজির হই এবং স্বেচ্ছায় কারাবরণ করতে চাই। পরবর্তীতে পরিবেশ বুঝে আমরা বাড়ী ফিরে আসি এবং পরদিন ১২ জুলাই আদালত থেকে জামিন নিই।

মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বাবু বলেন, মসজিদটি আমাদের পূর্ব পুরুষরা তৈরী করেছেন। মাবুদ বক্স ও তার স্ত্রী কছিরন এর সম্পত্তি ভুলবশত মসজিদের নামে রেকর্ড হয়। যা পরবর্তীতে সোলেনামার মাধ্যমে আমরা ডিক্রি পাই। সম্পত্তি আগেও আমাদের দখলে ছিল এখনও আছে। মসজিদ কখনওই এই সম্পত্তি ভোগদখল করে নাই।#

আপলোডকারীর তথ্য

সর্বোচ্চ পঠিত

নিয়ামতপুরে কুন্তইল মসজিদের জমি আত্মসাৎ : মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি<মহাদেবপুর দর্পণ>>

প্রকাশের সময় : ০২:১৭:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জুলাই ২০২১

মহাদেবপুর দর্পণ, তোফাজ্জল হোসেন, নিয়ামতপুর (নওগাঁ), ১৩ জুলাই ২০২১ :

মসজিদকে জমি দান করেন পূর্বপুরুষ। সেই জমি এসএ ও আরএস রেকর্ডভুক্তও হয় মসজিদের নামে। অথচ তারই ওয়ারিশরা এখন সেই জমি আত্মসাৎ করার চেষ্টা করছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে পুরো গ্রামবাসীকে হয়রানীর করা হচ্ছে। এমনটাই অভিযোগ পাওয়া গেছে উপজেলার হাজিনগর ইউনিয়নের কুন্তইল গ্রামে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, কুন্তইল জামে মসজিদের নামে নন্দীগ্রাম, পাঁচপুকুরিয়া ও চিনড়া মৌজায় ৮১, ১৭ ও ৫০ নম্বর খতিয়ানে ৫ একর ২৩ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় সাড়ে ১৭ বিঘা জমি এসএ এবং আরএস রেকর্ডভুক্ত হয়। জিম্মাদার হিসাবে দায়িত্বে থাকেন মৃত হাজি মাবুদ বক্স ও তার স্ত্রী কছিরন।

মসজিদটি ১৯৩৫ সালে নির্মাণ করা হয়। সেই থেকে ২০২১ সালের মে মাস পর্যন্ত প্রথমে মাবুদ বক্স, পরবর্তীতে তাঁর ছেলে আব্দুল জব্বার, আকবর আলী, সামাদ মন্ডল ও ইসমাইল মসজিদের দায়িত্ব পালন করেন। এর পর আকবর আলীর ছেলে সালাম ও ইসমাইল হোসেনের ছেলে জালাল ২০০৪ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৪ সাল থেকে ২০২১ সালের মে মাস পর্যন্ত সামাদ মন্ডলের ছেলে আসাদুজ্জামান স্টার সভাপতি ও আব্দুর জব্বারের ছেলে প্রভাষক মিজানুর রহমান বাবু সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। অর্থাৎ মসজিদ সৃষ্টি হতে ২০২১ সালের মে মাস পর্যন্ত জমিদাতা মাবুদ বক্সের ছেলে ও নাতিরাই মসজিদ পরিচালনা করে আসছিলেন। সেই সুযোগে তারা জমি দখলের জন্য প্রথমে আদালতে রেকর্ড সংশোধনীর মামলা দায়ের করলে আদালত তা খারিজ করেন।

পরবর্তীতে ২০০৮ সালে ২৬৭, ২৬৮, ২৬৯ নম্বর তিনটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার প্রেক্ষিতে ২০১০ সালে, ২০১১ সালে ও ২০১৪ সালে সভাপতি আসাদুজ্জামান স্টার ও সম্পাদক মিজানুর রহমান বাবু থাকা সত্ত্বেও তারা বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে নিজেরাই বাদী এবং বিবাদী সেজে ভূয়া সোলেনামা দাখিল করে আদালতে ডিক্রি নেন।

এ বিষয়ে বর্তমান মসজিদ কমিটির সভাপতি মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে তাইজুল ইসলাম বলেন, গ্রামবাসী আসাদুজ্জামান স্টার ও মিজানুর রহমান বাবুর কাছ থেকে এক বছর যাবত মসজিদের হিসাব চাইলে তারা টালবাহানা করে। এতে গ্রামবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের বাদ দিয়ে আমাকে সভাপতি ও আব্দুল হান্নানকে সম্পাদক করে নতুন কমিটি গঠন করেন। আমরা দায়িত্ব পাবার পর মসজিদের জমির সন্ধান করতে গেলে এই সমস্ত অনিয়ম ধরা পড়ে। তারা মসজিদের বেশ কিছু জমি অবৈধভাবে বিক্রি করে দেন।

বিক্রি করা জমির উপর তারা বসতবাড়ী পর্যন্ত নির্মান করে নিয়েছে। আমরা জমির কাগজপত্র সংগ্রহ করি ও মসজিদ কমিটির পক্ষ হতে জমিতে ধান রোপন করি। এতে গ্রামবাসীকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে সম্প্রদায়িক পরিস্থিতি সৃষ্টি করার জন্য একটি হিন্দু ব্যক্তিকে দিয়ে ৩৭ জনকে আসামী করে লুটপাট ও টাকা ছিনতাইয়ের একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে। আমাদের একজনকে পুলিশ ১১ জুলাই রাতে আটক করলে আমরা গ্রামবাসী সবাই রাতে থানায় গিয়ে হাজির হই এবং স্বেচ্ছায় কারাবরণ করতে চাই। পরবর্তীতে পরিবেশ বুঝে আমরা বাড়ী ফিরে আসি এবং পরদিন ১২ জুলাই আদালত থেকে জামিন নিই।

মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বাবু বলেন, মসজিদটি আমাদের পূর্ব পুরুষরা তৈরী করেছেন। মাবুদ বক্স ও তার স্ত্রী কছিরন এর সম্পত্তি ভুলবশত মসজিদের নামে রেকর্ড হয়। যা পরবর্তীতে সোলেনামার মাধ্যমে আমরা ডিক্রি পাই। সম্পত্তি আগেও আমাদের দখলে ছিল এখনও আছে। মসজিদ কখনওই এই সম্পত্তি ভোগদখল করে নাই।#