
মহাদেবপুর দর্পণ, কাজী সাঈদ টিটো, মহাদেবপুর (নওগাঁ), ২১ অক্টোবর ২০২৪ :
নওগাঁর মহাদেবপুরে রেক্টিফাইড স্পিরিট পানে দুই যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। স্থানীয়রা যাতে আর কোন যুবকের এভাবে অস্বাভাবিক মৃত্যু না হয় এজন্য অবিলম্বে এই স্পিরিট বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। এদের মধ্যে একজন শারদীয় দুর্গোৎসবের দশমীর পরদিন ও অন্যজন গত শুক্রবার মারা যান। তাদের অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছাঁয়া নেমে আসে। এভাবে তাদের অস্বাভাবিক মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছেন না।
সংশ্লিষ্টরা জানান, গত শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার খাজুর ইউনিয়নের কুঞ্জবন গ্রামের শ্রী সুশীল চন্দ্র দাসের ছেলে শ্রী সঞ্জিত কুমার দাস (৪৫) এবং এর চার দিন আগে সোমবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলা সদরের বাগানবাড়ি এলাকার শ্রীচরণ দাসের ছেলে পুর্ণ চন্দ্র দাস (৪২) মারা যান। সঞ্জিত কুমার দাসের সতীর্থরা জানান, বুধবার (১৬ অক্টোবর) সঞ্জিত ও তার একজন সঙ্গী হোমিও রেক্টিফাইড স্পিরিট পান করেন। পরদিন বিষক্রিয়া শুরু হলে বিষয়টি সঞ্জিত তার বন্ধুদের জানান। শুক্রবার সকালে পেট ব্যাথা ও বুক জ্বালাপোড়া করতে থাকলে বাড়িতেই বিভিন্ন ওষুধ সেবন করেন। দুপুরে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. খুরশিদুল ইসলাম জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হওয়ায় তিনি স্পিরিট পান করেছিলেন কিনা তা জানা যায়নি। স্থানীয়রা জানান, সঞ্জিত ও তার একজন বন্ধু প্রায়ই উপজেলার কুঞ্জবন বাজারের নতুন ব্রীজের পশ্চিম পাশে মধুবন সড়কের মোড়ে একটি হোমিও ওষুধের দোকানে বসে থাকতেন। ওই বন্ধু জানান, সেখানে মাঝে মাঝে সঞ্জিত সেক্সের হোমিও ওষুধ পান করতেন।
বিষয়টি জানতে রোববার (২০ অক্টোবর) দিবাগত রাতে ওই ওষুধের দোকানে গেলে সেখানকার হোমিও ডাক্তার খোরশেদ আলম জানান, সঞ্জিত তার কাছ থেকে কোনই ওষুধ গ্রহণ করতেন না। রেক্টিফাইড স্পিরিট তার কাছ থেকে নেননি বলেও দাবি করেন তিনি। সঞ্জিত মহাদেবপুর রনজয়তলা মন্দিরের পরিচালক ও স্থানীয় যুবকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয় হওয়ায় তার মৃত্যুর বিষয়টি কেউ সহজভাবে মেনে নিতে পারছেন না।
অপরজন শ্রী পুর্ণ চন্দ্র দাসের সতীর্থরা জানান, শারদীয় দুর্গোৎসব পালনের সময় প্রশাসন এলাকায় চোলাই মদ, বাংলা মদসহ প্রায় সব রকমের মাদকদ্রব্য তৈরি ও বিক্রি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। উপজেলার ১৫০টি পূজা মন্ডপের প্রায় সব কটিতে মাদক গ্রহণ করে ঘোরাঘুরি করা কঠোরভাবে তদারকি করা হয়। একারণে দশমীর দিনে শ্রী পুর্ণ চন্দ্র ও তার দুইবন্ধু হোমিও দোকান থেকে সংগ্রহ করা রেক্টিফাইড স্পিরিট পান করেন। পরদিন পুর্ণ চন্দ্র মারাত্মক অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। রাজশাহী নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
এই ঘটনায় পুর্ণ চন্দ্র দাসের দুই বন্ধুও বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হন। এদের মধ্যে খাজুর ইউনিয়নের লক্ষ্মণপুর গ্রামের একজনের অবস্থা বেশি খারাপ। তিনি ঘটনার পর থেকে চোখে ঝাপসা দেখছেন। অপরজন সফাপুর ইউনিয়নের তাতারপুর গ্রামের বাসিন্দা। উভয়েই স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিচ্ছেন। পুর্ণ চন্দ্র কোথা থেকে রেক্টিফাইড স্পিরিট সংগ্রহ করেছিলেন তা কেউ বলতে পারেননি। এই দুই অস্বাভাবিক মৃত্যু সম্পর্কে তাদের পরিবারের সদস্যরা থানা পুলিশকে কিছুই জানাননি। ফলে তাদের মরদেহের ময়নাতদন্তও করা হয়নি। রীতি অনুযায়ী পুর্ণ চন্দ্রের মরদেহ দাহ করা হয় ও সঞ্জিত কুমারের মরদেহ কবর দেয়া হয়।
মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাশমত আলী জানান, রেক্টিফাইড স্পিরিট পানে মৃত্যুর বিষয় তাঁকে কেউ জানাননি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নিবেন। উপজেল নির্বাহী অফিসার মো: আরিফুজ্জামানও বিষয়টি জেনে ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান।