নওগাঁ ০৯:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার :
মহাদেবপুর দর্পণ.কম ও সাপ্তাহিক মহাদেবপুর দর্পণের পরীক্সষমূলক সম্প্রচারে আপনাকে স্বাগতম ## আপামর মেহনতি মানুষের অকুন্ঠ ভালোবাসায় সিক্ত নওগাঁর নিজস্ব পত্রিকা ## নওগাঁর ১১ উপজেলার সব খবর সবার আগে ## মহাদেবপুর দর্পণ একবার পড়ুন, ভালো না লাগলে আর পড়বেন না ## যেখানে অনিয়ম সেখানেই মহাদেবপুর দর্পণ ## যেখানে দূর্নীতি, অন্যায়, অবিচার সেখানেই মহাদেবপুর দর্পণ সব সময় সাধারণ মানুষের পাশে ## মহাদেবপুর দর্পণের ফেসবুক আইডিতে ফলো দিয়ে সঙ্গেই থাকি ##

মহাদেবপুরে সওজ এর রাস্তা দখলের প্রতিযোগীতা

মহাদেবপুর দর্পণ, মহাদেবপুর (নওগাঁ), ১৫ অক্টোবর ২০২৪ : সওজ এর রাস্তা দখল করে প্রাচীর নির্মাণ চলছে এবং বহুতল ভবনের সামনে টিন দিয়ে ঘিরে দখল করা হয়েছে রাস্তা---ছবি : সাঈদ টিটো

মহাদেবপুর দর্পণ, কাজী সাঈদ টিটো, মহাদেবপুর (নওগাঁ), ১৫ অক্টোবর ২০২৪ :
নওগাঁর মহাদেবপুরে সড়ক ও জনপথ বিভাগের দীর্ঘদিনের পুরাতন রাস্তা দখলে রীতিমত প্রতিযোগীতা শুরু হয়েছে। কে কতখানি জায়গা দখল করে নিজের সুবিধা করে নিতে পারছেন এই আয়োজন চলছে। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার দুধার দখল করে একের পর এক ভবন নির্মাণ করলেও এদের রুখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এব্যাপারে কোনই পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলা সদরের পোষ্ট অফিস মোড়ে স্মরণাতীত কালে বাসস্ট্যান্ড ছিল। এখান থেকে বাস নওগাঁ ও পত্নীতলা যেতো। পোষ্ট অফিসের মোড় থেকে উত্তরদিকে থানার পাশ দিয়ে শিশু পার্ক, হাইস্কুল, প্রাইমারি স্কুল প্রভৃতির পাশ দিয়ে বর্তমান বরেন্দ্র মোড়ে গিয়ে এখনকার নওগাঁ-পত্নীতলা সড়কে উঠতো বাস। এটা তখন থেকে সওজ এর রাস্তা। থানার মোড় থেকে উত্তরে বাগানবাড়ি হয়ে বড় রাস্তা পর্যন্ত এই রাস্তার চওড়া ছিল ৯০ ফুট। এখনও রেকর্ডে ও নক্সায়ও তাই রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এই রাস্তার দুই ধার দখল করে পাকা বহুতল বাড়িঘর নির্মাণ করায় রাস্তাটির চওড়ায় এখন মাত্র ৯/১০ ফুট বাঁকি রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ৩০ বছর আগে থানার মোড় থেকে শুরম্ন করে হাইস্কুল মোড় পর্যন্ত এই রাস্তার পশ্চিম পাশ সরকারিভাবে দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে শিশু পার্ক। পার্কের ভীতর রাস্তা ঘেঁষে বসানো হয়েছে কয়েকটি দোকান। হাইস্কুল মোড় থেকে উত্তর দিকে দখল করা হয়েছে ব্যক্তি পর্যায়ে। রাস্তার দুপাশে উঁচু উঁচু পাকা বিল্ডিং। ভবনগুলোর সামনে রাস্তার অবশিষ্ট অংশও দখলের প্রতিযোগীতা চলছে। বেশিরভাগ ভবনের সামনে টয়লেটের ট্যাংকি ও শোকওয়েল নির্মাণ করা হয়েছে। কেটে ফেলা হয়েছে এসব জায়গায় রোপণ করা মূল্যবান গাছ। ঢেউটিন দিয়ে ঘিরে দখল করে রাখা হয়েছে রাস্তার জায়গা। নতুন করে এই রাস্তার মহাদেবপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পশ্চিমে রাস্তার জায়গা দখল করে ইটের প্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছে। পুরাতন প্রাচীরের ভীতর সওজ এর রাস্তায় রোপণ করা একটি আম গাছ ও একটি কাঁঠাল গাছ কেটে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানালেন।
জানতে চাইলে কয়েকজন বাড়িওয়ালা সরকারি রাস্তা দখল করে বাড়ি নির্মাণ বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি।
মহাদেবপুর উপজেলার দায়িত্বে নিয়োজিত সড়ক ও জনপথ বিভাগ নওগাঁর পত্নীতলা উপ-বিভাগের উপ-সহকারি প্রকৌশলী নুরে আলম বলেন, বিষয়টি তিনি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।
স্থানীয়দের দাবি এই রাস্তাটি এখন নওগাঁ-মহাদেবপুর-পত্নীতলা প্রধান সড়ক হিসেবে ব্যবহার না হলেও প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করে হাইস্কুল, প্রাইমারি স্কুল, কলেজ ও বেশ কয়েকটি কিন্ডারগার্টেন ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা চলাচল করেন। পরীক্ষার সময় ও হাটবারে এই রাস্তা সব সময় ব্যস্ত থাকে। ব্যক্তি পর্যায়ে যারা অবৈধভাবে রাস্তা দখল করে বাড়ি নির্মাণ করেছে তাদের অবিলম্বে উচ্ছেদ করে ৯০ ফুট চওড়া বিশিষ্ট রাস্তা বের করা হোক।
অভিজ্ঞরা বলছেন, বিষয়টি স্থানীয় সব নেতাদের জানা থাকলেও রাজনৈতিক কারণে তারা এই রাস্তা দখলদারদের কবল থেকে উদ্ধার করার উদ্যোগ নিতে পারেননি। এখন ছাত্রজনতার সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কোন বিষয়ে রাজনৈতিক চাপও নেই। জাতির সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট সন্তানরা এখন দেশ পরিচালনা করছেন। সবকিছুতেই স্বচ্ছতা ফিরে আসছে। এই অবস্থায় দখলদারিত্বের অবশান হতেই পারে।
এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট উর্ধতনদের এগিয়ে আসার দাবি স্থানীয়দের।
আপলোডকারীর তথ্য

সর্বোচ্চ পঠিত

মহাদেবপুরে সওজ এর রাস্তা দখলের প্রতিযোগীতা

প্রকাশের সময় : ০৬:৪৩:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৪
মহাদেবপুর দর্পণ, কাজী সাঈদ টিটো, মহাদেবপুর (নওগাঁ), ১৫ অক্টোবর ২০২৪ :
নওগাঁর মহাদেবপুরে সড়ক ও জনপথ বিভাগের দীর্ঘদিনের পুরাতন রাস্তা দখলে রীতিমত প্রতিযোগীতা শুরু হয়েছে। কে কতখানি জায়গা দখল করে নিজের সুবিধা করে নিতে পারছেন এই আয়োজন চলছে। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার দুধার দখল করে একের পর এক ভবন নির্মাণ করলেও এদের রুখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এব্যাপারে কোনই পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলা সদরের পোষ্ট অফিস মোড়ে স্মরণাতীত কালে বাসস্ট্যান্ড ছিল। এখান থেকে বাস নওগাঁ ও পত্নীতলা যেতো। পোষ্ট অফিসের মোড় থেকে উত্তরদিকে থানার পাশ দিয়ে শিশু পার্ক, হাইস্কুল, প্রাইমারি স্কুল প্রভৃতির পাশ দিয়ে বর্তমান বরেন্দ্র মোড়ে গিয়ে এখনকার নওগাঁ-পত্নীতলা সড়কে উঠতো বাস। এটা তখন থেকে সওজ এর রাস্তা। থানার মোড় থেকে উত্তরে বাগানবাড়ি হয়ে বড় রাস্তা পর্যন্ত এই রাস্তার চওড়া ছিল ৯০ ফুট। এখনও রেকর্ডে ও নক্সায়ও তাই রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এই রাস্তার দুই ধার দখল করে পাকা বহুতল বাড়িঘর নির্মাণ করায় রাস্তাটির চওড়ায় এখন মাত্র ৯/১০ ফুট বাঁকি রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ৩০ বছর আগে থানার মোড় থেকে শুরম্ন করে হাইস্কুল মোড় পর্যন্ত এই রাস্তার পশ্চিম পাশ সরকারিভাবে দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে শিশু পার্ক। পার্কের ভীতর রাস্তা ঘেঁষে বসানো হয়েছে কয়েকটি দোকান। হাইস্কুল মোড় থেকে উত্তর দিকে দখল করা হয়েছে ব্যক্তি পর্যায়ে। রাস্তার দুপাশে উঁচু উঁচু পাকা বিল্ডিং। ভবনগুলোর সামনে রাস্তার অবশিষ্ট অংশও দখলের প্রতিযোগীতা চলছে। বেশিরভাগ ভবনের সামনে টয়লেটের ট্যাংকি ও শোকওয়েল নির্মাণ করা হয়েছে। কেটে ফেলা হয়েছে এসব জায়গায় রোপণ করা মূল্যবান গাছ। ঢেউটিন দিয়ে ঘিরে দখল করে রাখা হয়েছে রাস্তার জায়গা। নতুন করে এই রাস্তার মহাদেবপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পশ্চিমে রাস্তার জায়গা দখল করে ইটের প্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছে। পুরাতন প্রাচীরের ভীতর সওজ এর রাস্তায় রোপণ করা একটি আম গাছ ও একটি কাঁঠাল গাছ কেটে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানালেন।
জানতে চাইলে কয়েকজন বাড়িওয়ালা সরকারি রাস্তা দখল করে বাড়ি নির্মাণ বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি।
মহাদেবপুর উপজেলার দায়িত্বে নিয়োজিত সড়ক ও জনপথ বিভাগ নওগাঁর পত্নীতলা উপ-বিভাগের উপ-সহকারি প্রকৌশলী নুরে আলম বলেন, বিষয়টি তিনি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।
স্থানীয়দের দাবি এই রাস্তাটি এখন নওগাঁ-মহাদেবপুর-পত্নীতলা প্রধান সড়ক হিসেবে ব্যবহার না হলেও প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করে হাইস্কুল, প্রাইমারি স্কুল, কলেজ ও বেশ কয়েকটি কিন্ডারগার্টেন ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা চলাচল করেন। পরীক্ষার সময় ও হাটবারে এই রাস্তা সব সময় ব্যস্ত থাকে। ব্যক্তি পর্যায়ে যারা অবৈধভাবে রাস্তা দখল করে বাড়ি নির্মাণ করেছে তাদের অবিলম্বে উচ্ছেদ করে ৯০ ফুট চওড়া বিশিষ্ট রাস্তা বের করা হোক।
অভিজ্ঞরা বলছেন, বিষয়টি স্থানীয় সব নেতাদের জানা থাকলেও রাজনৈতিক কারণে তারা এই রাস্তা দখলদারদের কবল থেকে উদ্ধার করার উদ্যোগ নিতে পারেননি। এখন ছাত্রজনতার সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কোন বিষয়ে রাজনৈতিক চাপও নেই। জাতির সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট সন্তানরা এখন দেশ পরিচালনা করছেন। সবকিছুতেই স্বচ্ছতা ফিরে আসছে। এই অবস্থায় দখলদারিত্বের অবশান হতেই পারে।
এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট উর্ধতনদের এগিয়ে আসার দাবি স্থানীয়দের।