নওগাঁ ১২:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার :
মহাদেবপুর দর্পণ.কম ও সাপ্তাহিক মহাদেবপুর দর্পণের পরীক্সষমূলক সম্প্রচারে আপনাকে স্বাগতম ## আপামর মেহনতি মানুষের অকুন্ঠ ভালোবাসায় সিক্ত নওগাঁর নিজস্ব পত্রিকা ## নওগাঁর ১১ উপজেলার সব খবর সবার আগে ## মহাদেবপুর দর্পণ একবার পড়ুন, ভালো না লাগলে আর পড়বেন না ## যেখানে অনিয়ম সেখানেই মহাদেবপুর দর্পণ ## যেখানে দূর্নীতি, অন্যায়, অবিচার সেখানেই মহাদেবপুর দর্পণ সব সময় সাধারণ মানুষের পাশে ## মহাদেবপুর দর্পণের ফেসবুক আইডিতে ফলো দিয়ে সঙ্গেই থাকি ##

মহাদেবপুরে ফুটপাতের চা স্টলে শিশুর লেখাপড়ার ছবি ভাইরাল<<মহাদেবপুর দর্পণ>>

মহাদেবপুর দর্পণ, মহাদেবপুর (নওগাঁ), ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩ : ভরদুপুরে ফাঁকা চা স্টলে আনমনে লেখাপড়ায় ব্যস্ত শিশু হাবিবা----সাঈদ টিটো

মহাদেবপুর দর্পণ, কাজী সাঈদ টিটো, মহাদেবপুর (নওগাঁ), ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩ :

নওগাঁর মহাদেবপুরে সড়কের পাশে ফুটপাতের একটি চা স্টলে লেখাপড়ায় ব্যস্ত শিশুর ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ছবিতে অসংখ্য মানুষ লাইক দিয়েছেন, কমেন্ট করে উৎসাহ যুগিয়েছেন। বিষয়টির প্রশংসা করেছেন সকলে।

গত সোমবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা সদরের শিবগঞ্জ মোড়ে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের পশ্চিমপাশে ফুটপাতের উপর টিনের ছাউনি দেয়া একটি ফাঁকা চা স্টলে বই খাতা নিয়ে লেখাপড়ায় ব্যস্ত ৯ বছর বয়সী এক কন্যাশিশু। এই মোবাইলের যুগে অভিভাবকেরা যখন তাদের শিশুদের লেখাপড়া নিয়ে চিন্তিত তখন ভরদুপুরে এরকম একটি দৃশ্য চোখে পড়লে যে কারো ভাল লাগবে। ভালবাসা জন্মাবে ওই শিশুর প্রতি।

কথা বলতেই হেসে উত্তর দেয় শিশুটি। তার নাম উম্মে হাবিবা, জানায় সে। তার বাবা আব্দুল হামিদ পাশেই বচনা ব্রিজ এলাকায় সরকারি জায়গার উপর বস্তি বাড়িতে থাকেন। দুপুরে তাকে দোকানে রেখে বাসায় খেতে গেছেন তিনি। দোকানে কোন খরিদ্দার না থাকার সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে হাতের লেখায় মন দিয়েছে সে। অবশ্য কেউ চা খেতে এলে সেইই সামলায়।

ছবিটি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের ‘মহাদেবপুর দর্পণ’ নামক আইডিতে আপলোড দিলে মুহুর্তেই ভাইরাল হয় সেটি। রনি আহমেদ নামে একজন লিখেছেন, ভাগ্যবান বাবার মেয়েটির জন্য দোওয়া ও শুভ কামনা। জীবন মহন্ত লিখেছেন, এসব দেখলে মন ভরে যায়। কাজী পারভেজ লিখেছেন, খুব সুন্দর ছবি। মাহাবুব আলম লিখেছেন, ভবিষ্যৎ বিসিএস ক্যাডার। প্রভাত ব্যানার্জী লিখেছেন, আসলেই এই পোষ্ট থেকে কিছু শেখার আছে। ইসমাইল হোসেন লিখেছেন, এরাই দেশের ভবিষ্যৎ। আরো অসংখ্য কমেন্টে তার জন্য দোওয়া ও শুভ কামনা জানিয়েছেন পাঠকরা।

পরদিন বিকেলে ওই এলাকায় দেখা হয় শিশুটির বাবা আব্দুল হামিদের সাথে। মেয়েকে স্কুল থেকে আনছিলেন তিনি। জানালেন মহাদেবপুর উপজেলা সদরের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। ক্লাসের অন্যরা প্রাইভেট পড়লেও অর্থের অভাবে তার মেয়েকে প্রাইভেটে দিতে পারেননি। নিজেরাই পড়ান তাকে। লেখাপড়ায় তার মেয়ের আগ্রহ দেখে তারাও মুগ্ধ।

আব্দুল হামিদ জানালেন, তারা ভূমিহীন, গৃহহীন বেশ কয়েকটি পরিবার এখন সড়ক ও জনপদ বিভাগের জায়গার উপর বস্তি তৈরি করে সেখানে বসবাস করছেন। পাশেই রয়েছে বিশাল খাস জমি। সে জমি লিজ নেয়ার জন্য গত কয়েক বছর ধরে দ্বারে দ্বারে ধর্না দিচ্ছেন। কিন্তু তাদের সে স্বপ্ন বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছেন না কেউ।#

আপলোডকারীর তথ্য

সর্বোচ্চ পঠিত

মহাদেবপুরে ফুটপাতের চা স্টলে শিশুর লেখাপড়ার ছবি ভাইরাল<<মহাদেবপুর দর্পণ>>

প্রকাশের সময় : ০৫:২৩:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩

মহাদেবপুর দর্পণ, কাজী সাঈদ টিটো, মহাদেবপুর (নওগাঁ), ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩ :

নওগাঁর মহাদেবপুরে সড়কের পাশে ফুটপাতের একটি চা স্টলে লেখাপড়ায় ব্যস্ত শিশুর ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ছবিতে অসংখ্য মানুষ লাইক দিয়েছেন, কমেন্ট করে উৎসাহ যুগিয়েছেন। বিষয়টির প্রশংসা করেছেন সকলে।

গত সোমবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা সদরের শিবগঞ্জ মোড়ে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের পশ্চিমপাশে ফুটপাতের উপর টিনের ছাউনি দেয়া একটি ফাঁকা চা স্টলে বই খাতা নিয়ে লেখাপড়ায় ব্যস্ত ৯ বছর বয়সী এক কন্যাশিশু। এই মোবাইলের যুগে অভিভাবকেরা যখন তাদের শিশুদের লেখাপড়া নিয়ে চিন্তিত তখন ভরদুপুরে এরকম একটি দৃশ্য চোখে পড়লে যে কারো ভাল লাগবে। ভালবাসা জন্মাবে ওই শিশুর প্রতি।

কথা বলতেই হেসে উত্তর দেয় শিশুটি। তার নাম উম্মে হাবিবা, জানায় সে। তার বাবা আব্দুল হামিদ পাশেই বচনা ব্রিজ এলাকায় সরকারি জায়গার উপর বস্তি বাড়িতে থাকেন। দুপুরে তাকে দোকানে রেখে বাসায় খেতে গেছেন তিনি। দোকানে কোন খরিদ্দার না থাকার সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে হাতের লেখায় মন দিয়েছে সে। অবশ্য কেউ চা খেতে এলে সেইই সামলায়।

ছবিটি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের ‘মহাদেবপুর দর্পণ’ নামক আইডিতে আপলোড দিলে মুহুর্তেই ভাইরাল হয় সেটি। রনি আহমেদ নামে একজন লিখেছেন, ভাগ্যবান বাবার মেয়েটির জন্য দোওয়া ও শুভ কামনা। জীবন মহন্ত লিখেছেন, এসব দেখলে মন ভরে যায়। কাজী পারভেজ লিখেছেন, খুব সুন্দর ছবি। মাহাবুব আলম লিখেছেন, ভবিষ্যৎ বিসিএস ক্যাডার। প্রভাত ব্যানার্জী লিখেছেন, আসলেই এই পোষ্ট থেকে কিছু শেখার আছে। ইসমাইল হোসেন লিখেছেন, এরাই দেশের ভবিষ্যৎ। আরো অসংখ্য কমেন্টে তার জন্য দোওয়া ও শুভ কামনা জানিয়েছেন পাঠকরা।

পরদিন বিকেলে ওই এলাকায় দেখা হয় শিশুটির বাবা আব্দুল হামিদের সাথে। মেয়েকে স্কুল থেকে আনছিলেন তিনি। জানালেন মহাদেবপুর উপজেলা সদরের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। ক্লাসের অন্যরা প্রাইভেট পড়লেও অর্থের অভাবে তার মেয়েকে প্রাইভেটে দিতে পারেননি। নিজেরাই পড়ান তাকে। লেখাপড়ায় তার মেয়ের আগ্রহ দেখে তারাও মুগ্ধ।

আব্দুল হামিদ জানালেন, তারা ভূমিহীন, গৃহহীন বেশ কয়েকটি পরিবার এখন সড়ক ও জনপদ বিভাগের জায়গার উপর বস্তি তৈরি করে সেখানে বসবাস করছেন। পাশেই রয়েছে বিশাল খাস জমি। সে জমি লিজ নেয়ার জন্য গত কয়েক বছর ধরে দ্বারে দ্বারে ধর্না দিচ্ছেন। কিন্তু তাদের সে স্বপ্ন বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছেন না কেউ।#