নওগাঁ ০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার :
মহাদেবপুর দর্পণ.কম ও সাপ্তাহিক মহাদেবপুর দর্পণের পরীক্সষমূলক সম্প্রচারে আপনাকে স্বাগতম ## আপামর মেহনতি মানুষের অকুন্ঠ ভালোবাসায় সিক্ত নওগাঁর নিজস্ব পত্রিকা ## নওগাঁর ১১ উপজেলার সব খবর সবার আগে ## মহাদেবপুর দর্পণ একবার পড়ুন, ভালো না লাগলে আর পড়বেন না ## যেখানে অনিয়ম সেখানেই মহাদেবপুর দর্পণ ## যেখানে দূর্নীতি, অন্যায়, অবিচার সেখানেই মহাদেবপুর দর্পণ সব সময় সাধারণ মানুষের পাশে ## মহাদেবপুর দর্পণের ফেসবুক আইডিতে ফলো দিয়ে সঙ্গেই থাকি ##

স্মরণ : আদিবাসী নেতা আলফ্রেড সরেন<<মহাদেবপুর দর্পণ>>

মহাদেবপুর দর্পণ, কাজী আবু হুরাইরা শিলন, মহাদেবপুর (নওগাঁ), ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ :

সরকারি খাস জমির দখল নিতে ২০০০ সালের ১৮ আগস্ট দুপুরে মহাদেবপুর উপজেলার ভীমপুর আদিবাসী পল্লীতে আদিবাসীদের নেতা আলফ্রেড সরেনকে (৩৬) নৃশংসভাবে হত্যা করে ভূমিদস্যু হাতেম-গদাই বাহিনী। গত ২৩ বছরেও সে হত্যাকান্ডের মামলার সুরাহা হয়নি।

ওই এলাকায় প্রায় একশ’ একর খাস জমি দখল করতেন নওগাঁ সদর উপজেলার বলিহার ইউপি চেয়ারম্যান হাতেম আলী ও শীতেষ চন্দ্র ভট্টাচার্য্য ওরফে গদাই লস্কর গং। জমি দখলের কাজে তারা চাঁপাইনবাবগঞ্জ এলাকা থেকে আদিবাসীদের ২৪টি পরিবারকে ডেকে এনে ভীমপুরে জায়গা দেন। কিন্তু আদিবাসীরা তাদের বসত এলাকার ৩০ বিঘাসহ খাস জমি তাদের নামে লিজ দেয়ার দাবি আসছিল। ২০০০ সালের ১৮ আগস্ট এই দাবিতে তারা চৌমাসিয়া নওহাটার মোড়ে সমাবেশের ডাক দেয়। দুপুরে বিভিন্ন স্থান থেকে কয়েক হাজার আদিবাসী সেখানে সমবেত হয়।

আদিবাসী নেতা আলফ্রেড সরেন এসময় দুপুরের খাবার জন্য ভীমপুর আদিবাসী পল্লীতে তার বাড়িতে যান। তখন ওই পল্লীতে অন্য কোন পুরুষ না থাকার সুযোগে প্রতিপক্ষরা সেখানে হামলা চালায়। তারা আলফ্রেড সরেনের ঘর আগুন দিয়ে জ¦ালিয়ে দিয়ে আলফ্রেড সরেনকে ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে বাধ্য করে। এরপর তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। এসময় পল্লীর নারী ও শিশুদের মারপিট করে পুকুরে ছুড়ে ফেলে দেয় হামলাকারিরা।

পরদিন বিষয়টি দেশের বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রচার হলে আলফ্রেড সরেন হত্যার ঘটনা আন্তর্জাতিক ইস্যুতে পরিণত হয়। আলফ্রেড সরেনের বোন রেবেকা সরেন কিছুটা লেখাপড়া জানায় তিনি ঘটনার মুখপত্রের ভূমিকা পালন করেন। একপর্যায়ে তিনি বাম রাজনৈতিক দলের নেত্রী হন।

এব্যাপারে রেবেকা সরেন বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটি জননিরাপত্তা আইনে রুপান্তর করা হয়। মামলায় পুলিশ ৯১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। নওগাঁ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলার ৪১ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। ইতোমধ্যে জননিরাপত্তা আইন বাতিল হলে আসামীরা হাইকোর্টে রিট পিটিশন করলে মামলাটি স্থগিত হয়। বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাড. মহসীন রেজা জানান, বর্তমানে মামলাটি হাইকোর্টে শুনানীর জন্য রয়েছে।

আপলোডকারীর তথ্য

সর্বোচ্চ পঠিত

স্মরণ : আদিবাসী নেতা আলফ্রেড সরেন<<মহাদেবপুর দর্পণ>>

প্রকাশের সময় : ০৪:৫৩:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩

মহাদেবপুর দর্পণ, কাজী আবু হুরাইরা শিলন, মহাদেবপুর (নওগাঁ), ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ :

সরকারি খাস জমির দখল নিতে ২০০০ সালের ১৮ আগস্ট দুপুরে মহাদেবপুর উপজেলার ভীমপুর আদিবাসী পল্লীতে আদিবাসীদের নেতা আলফ্রেড সরেনকে (৩৬) নৃশংসভাবে হত্যা করে ভূমিদস্যু হাতেম-গদাই বাহিনী। গত ২৩ বছরেও সে হত্যাকান্ডের মামলার সুরাহা হয়নি।

ওই এলাকায় প্রায় একশ’ একর খাস জমি দখল করতেন নওগাঁ সদর উপজেলার বলিহার ইউপি চেয়ারম্যান হাতেম আলী ও শীতেষ চন্দ্র ভট্টাচার্য্য ওরফে গদাই লস্কর গং। জমি দখলের কাজে তারা চাঁপাইনবাবগঞ্জ এলাকা থেকে আদিবাসীদের ২৪টি পরিবারকে ডেকে এনে ভীমপুরে জায়গা দেন। কিন্তু আদিবাসীরা তাদের বসত এলাকার ৩০ বিঘাসহ খাস জমি তাদের নামে লিজ দেয়ার দাবি আসছিল। ২০০০ সালের ১৮ আগস্ট এই দাবিতে তারা চৌমাসিয়া নওহাটার মোড়ে সমাবেশের ডাক দেয়। দুপুরে বিভিন্ন স্থান থেকে কয়েক হাজার আদিবাসী সেখানে সমবেত হয়।

আদিবাসী নেতা আলফ্রেড সরেন এসময় দুপুরের খাবার জন্য ভীমপুর আদিবাসী পল্লীতে তার বাড়িতে যান। তখন ওই পল্লীতে অন্য কোন পুরুষ না থাকার সুযোগে প্রতিপক্ষরা সেখানে হামলা চালায়। তারা আলফ্রেড সরেনের ঘর আগুন দিয়ে জ¦ালিয়ে দিয়ে আলফ্রেড সরেনকে ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে বাধ্য করে। এরপর তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। এসময় পল্লীর নারী ও শিশুদের মারপিট করে পুকুরে ছুড়ে ফেলে দেয় হামলাকারিরা।

পরদিন বিষয়টি দেশের বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রচার হলে আলফ্রেড সরেন হত্যার ঘটনা আন্তর্জাতিক ইস্যুতে পরিণত হয়। আলফ্রেড সরেনের বোন রেবেকা সরেন কিছুটা লেখাপড়া জানায় তিনি ঘটনার মুখপত্রের ভূমিকা পালন করেন। একপর্যায়ে তিনি বাম রাজনৈতিক দলের নেত্রী হন।

এব্যাপারে রেবেকা সরেন বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটি জননিরাপত্তা আইনে রুপান্তর করা হয়। মামলায় পুলিশ ৯১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। নওগাঁ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলার ৪১ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। ইতোমধ্যে জননিরাপত্তা আইন বাতিল হলে আসামীরা হাইকোর্টে রিট পিটিশন করলে মামলাটি স্থগিত হয়। বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাড. মহসীন রেজা জানান, বর্তমানে মামলাটি হাইকোর্টে শুনানীর জন্য রয়েছে।