নওগাঁ ০৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার :
মহাদেবপুর দর্পণ.কম ও সাপ্তাহিক মহাদেবপুর দর্পণের পরীক্সষমূলক সম্প্রচারে আপনাকে স্বাগতম ## আপামর মেহনতি মানুষের অকুন্ঠ ভালোবাসায় সিক্ত নওগাঁর নিজস্ব পত্রিকা ## নওগাঁর ১১ উপজেলার সব খবর সবার আগে ## মহাদেবপুর দর্পণ একবার পড়ুন, ভালো না লাগলে আর পড়বেন না ## যেখানে অনিয়ম সেখানেই মহাদেবপুর দর্পণ ## যেখানে দূর্নীতি, অন্যায়, অবিচার সেখানেই মহাদেবপুর দর্পণ সব সময় সাধারণ মানুষের পাশে ## মহাদেবপুর দর্পণের ফেসবুক আইডিতে ফলো দিয়ে সঙ্গেই থাকি ##

এ সপ্তাহের খুৎবা : পাপ করা মানে নিজের উপর যুলুম করা<<মহাদেবপুর দর্পণ>>

মহাদেবপুর দর্পণ : আজ শুক্রবার ১ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১৪৪৫ হিজরির সফর মাসের ১৫ তারিখ। মাসের দ্বিতীয় খুৎবা। মহাদেবপুর উপজেলা সদরের কেন্দ্রীয় জামেহ মসজিদের খতিব উপাধ্যক্ষ মাওলানা মো: জিল্লুর রহমান জুম্মার নামাজের আগে বাংলায় খুৎবায় যে আলোচনা করেন তার সারাংশ মহাদেবপুর দর্পণের অগণিত পাঠক পাঠিকার জন্য পত্রস্থ করা হলো :

ইমাম সাহেব পবিত্র কুরআন শরিফ হাতে নিয়ে সুরা লুকমান পাঠ করে তার তরজমা করেন। তিনি বলেন, হযরত লুকমান (আ:) এর পুরো নাম ছিল লুকমান হাকিম। হাকিম অর্থ জ্ঞানী। তিনি ছিলেন মহা জ্ঞানী। তবে তিনি নবী ছিলেন কিনা তা একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আ’লামীনই জানেন। কোন কোন আলেম বলেন তিনি নবী ছিলেন। আবার কোন কোন আলেম বলেন তিনি নবী ছিলেন না। তবে তিনি যে আল্লাহ রাব্বুল আ’লামীনের খুব পেয়ারা বান্দা ছিলেন তা নিশ্চিত। কেনানা তার নামে পবিত্র কুরআনে একটি পূর্ণ সুরা নাজিল করেছেন। তিনি তার ছেলেকে যেসব নসিহত করেছেন তা কুরআনে গুরুত্ব সহকারে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইমাম সাহেব বলেন, আল্লাহ বলেন, ওয়া ইয্ কালা লুকমানু লিবনিহি ওয়া হুয়া ইয়াইজুহু ইয়া বুনাইয়া লা তুছরিক বিল্লাহি ইন্নাশশিরকা লা জুলমুন আজিম। অর্থাৎ আর স্মরণ কর, যখন লুকমান তার পুত্রকে উপদেশ দিতে গিয়ে বলেছিল, ‘প্রিয় বৎস, আল্লাহর সাথে শিরক করো না; নিশ্চয় শিরক হল বড় যুলুম’। ইমাম সাহেব মুসল্লিদের প্রশ্ন করেন শিরক করাকে আল্লাহ যুলুম বললেন কেন? তিনি বলেন, শিরক হলো আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করা। তাহলে কার উপর যুলুম করা হলো? আল্লাহ বলেন, ইন্নাল্লাহা লা ইয়াগফিরু আইয়ুশরাকাবিহি ওয়া ইয়াগফিরু মাদুনা যালিকা লিমাইয়্যাশাউ, ওয়া মাইয়ুশরিক বিল্লাহি ফাকাদিফতারা ইন্না মা আযীম। অর্থাৎ নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সাথে শরীক করাকে ক্ষমা করেন না। তিনি ক্ষমা করেন এ ছাড়া অন্যান্য পাপ, যার জন্য তিনি চান। আর যে আল্লাহর সাথে শরীক করে সে অবশ্যই মহাপাপ রচনা করে।

ইমাম সাহেব বলেন, আল্লাহ সৎ বান্দাদের জন্য যেমন বেহেস্ত তৈরি করেছেন, তেমনি নাফরমান বান্দাদের শাস্তি দেয়ার জন্য জাহান্নামও তৈরি করেছেন। কোন মানুষকে কেউ যদি চোখের সামনে মারপিট করে তা দেখতেও খুব কষ্ট হয়। আর যদি জীবন্ত কারো শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়, তবে সেটা সবচেয়ে বেশি ভয়াবহ। কিন্তু আল্লাহ শাস্তি হিসেবে এই ভয়াবহ আগুনই রেখেছেন। আল্লাহ হযরত আদম (আ:) কে বেহেস্তের একটি গাছের নিচে যেতে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু শয়তানের প্ররোচনায় হযরত আদম (আ:) সে গাছের নিচে গেলেন এবং তার ফলও খেলেন। এর শাস্তি যখন ভোগ করছিলেন তখন আল্লাহ তাকে এই বলে দোওয়া করতে শিখিয়ে দিলেন, রাব্বানা যালামনা আনফুসানা ওয়া ইল্লাম তাগফিরলানা ওয়া তারহামনা লানাকুনান্না মিনাল খাসিরীন। অর্থাৎ হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা নিজেদের প্রতি অন্যায় করেছি, তুমি যদি আমাদের ক্ষমা না করো, আমাদের প্রতি করুণা না করো তবে আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যাবো।

ইমাম সাহেব বলেন, আমরা যখন কোন পাপ করি, তার জন্য আগুনে পুড়ে শাস্তি পেতে হবে। কিন্তু যদি পাপ না করি, তাহলে শাস্তি পেতে হবেনা। অর্থাৎ পাপ করে আমরা নিজেদের প্রতিই যুলুম করি।

ইমাম সাহেব বলেন, হযরত লুকমান (আ:) তার ছেলেকে দ্বিতীয় যে উপদেশটি দিয়েছিলেন তা তার ছেলের জন্য এবং অন্য সবার জন্য। সেসম্পর্কে আল্লাহ বলেন, ওয়া ওয়াস সায়নাল ইনসানা বিওয়ালিদায়হি হামালাতহু উম্মুহু ওয়াহনান আ’লা ওয়াহনিও ওয়া ফিসালুহু ফি আমায়নি ইন্নাশকুরলি ওয়ালিওয়ালিদায়কা ইলাইয়্যাল মাসির। অর্থাৎ আর আমি মানুষকে তার মাতাপিতার ব্যাপারে (সদাচরণের) নির্দেশ দিয়েছি। তার মা কষ্টের পর কষ্ট ভোগ করে তাকে গর্ভে ধারণ করে। আর তার দুধ ছাড়ানো হয় দু’বছরে; সুতরাং আমার ও তোমার পিতা-মাতার শুকরিয়া আদায় কর। প্রত্যাবর্তন তো আমার কাছেই। ইমাম সাহেব বলেন, আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন তোমাদের পিতামাতার প্রতি ভালো আচরণ করতে থাকো। কিন্তু যদি কারো পিতামাতা আল্লাহর সাথে শরিক করতে বলেন তবে সেটা মানার প্রয়োজন নাই। কিন্তু তাদের সাথে সদ ব্যবহার করতে থাকতে হবে।

ইমাম সাহেব বলেন, আল্লাহ রাব্বুল আ’লামীন আমাদেরকে শাস্তি দিতে চাননা। তিনি অত্যন্ত দয়ালু। বরং মানুষই আল্লাহর নিয়ামত পেয়েও শুকরিয়া আদায় করেনা। যারা অসুখে পড়েছেন শুধু তারাই বুঝতে পারেন আল্লাহ আমাদের জীবনে কত বড় বড় নিয়ামত দান করেছেন। আমরা ফুসফুস দিয়ে নিশ^াশ নিই। কিন্তু আল্লাহ ইচ্ছা করলেই বাতাস নেয়া একটু কমিয়ে দিতে পারেন। তাহলেই মানুষের অস্বস্তি শুরু হয়ে যাবে। যেতে হবে হাসপাতালে। কেউ স্ট্রোক করলে কারো দুই সাইড আবার কারো এক সাইড পেরালাইসড হয়। মাত্র একটি রগে রক্ত চলাচল বন্ধ করে দিলে পুরো শরীর অচল হয়ে যায়। কারো মাথায় রক্তক্ষরণ হলে কি অবস্থা দাঁড়ায়। সুতরাং আমরা যারা সুস্থ্য আছি তারা তো আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করিনা। ঠিকমত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজও পরিনা। তার পরও আল্লাহ আমাদেরকে দয়া করেন।

আল্লাহ দয়ার একশ’ ভাগের মাত্র এক ভাগ মানুষকে দিয়েছেন। ৯৯ ভাগ দয়া রেখেছেন নিজের কাছে। হযরত মুসা (আ:) একবার আল্লাহকে বললেন, মানুষকে কতখানি দয়া দিয়েছেন তার একটি উদাহরণ দেন। তখন আল্লাহ বললেন, দেখ সাগরে একটি পাখি ঠোটে করে পানি পান করছে। ওই সাগরে যত পানি আছে সেটা আমার দয়া, আর পাখির ঠোটে যতটুকু পানি ধরেছে ততখানি দয়া মানুষকে দিয়েছি। আল্লাহ রাব্বুল আ’লামীন আমাদেরকে শিরক থেকে বাঁচার ও পিতামাতার সাথে ভালো আচরণ করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

—-শুনে শুনে লেখা : কাজী সাঈদ টিটো, ১.৯.২৩

 

আপলোডকারীর তথ্য

সর্বোচ্চ পঠিত

এ সপ্তাহের খুৎবা : পাপ করা মানে নিজের উপর যুলুম করা<<মহাদেবপুর দর্পণ>>

প্রকাশের সময় : ০৯:৪৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৩

মহাদেবপুর দর্পণ : আজ শুক্রবার ১ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১৪৪৫ হিজরির সফর মাসের ১৫ তারিখ। মাসের দ্বিতীয় খুৎবা। মহাদেবপুর উপজেলা সদরের কেন্দ্রীয় জামেহ মসজিদের খতিব উপাধ্যক্ষ মাওলানা মো: জিল্লুর রহমান জুম্মার নামাজের আগে বাংলায় খুৎবায় যে আলোচনা করেন তার সারাংশ মহাদেবপুর দর্পণের অগণিত পাঠক পাঠিকার জন্য পত্রস্থ করা হলো :

ইমাম সাহেব পবিত্র কুরআন শরিফ হাতে নিয়ে সুরা লুকমান পাঠ করে তার তরজমা করেন। তিনি বলেন, হযরত লুকমান (আ:) এর পুরো নাম ছিল লুকমান হাকিম। হাকিম অর্থ জ্ঞানী। তিনি ছিলেন মহা জ্ঞানী। তবে তিনি নবী ছিলেন কিনা তা একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আ’লামীনই জানেন। কোন কোন আলেম বলেন তিনি নবী ছিলেন। আবার কোন কোন আলেম বলেন তিনি নবী ছিলেন না। তবে তিনি যে আল্লাহ রাব্বুল আ’লামীনের খুব পেয়ারা বান্দা ছিলেন তা নিশ্চিত। কেনানা তার নামে পবিত্র কুরআনে একটি পূর্ণ সুরা নাজিল করেছেন। তিনি তার ছেলেকে যেসব নসিহত করেছেন তা কুরআনে গুরুত্ব সহকারে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইমাম সাহেব বলেন, আল্লাহ বলেন, ওয়া ইয্ কালা লুকমানু লিবনিহি ওয়া হুয়া ইয়াইজুহু ইয়া বুনাইয়া লা তুছরিক বিল্লাহি ইন্নাশশিরকা লা জুলমুন আজিম। অর্থাৎ আর স্মরণ কর, যখন লুকমান তার পুত্রকে উপদেশ দিতে গিয়ে বলেছিল, ‘প্রিয় বৎস, আল্লাহর সাথে শিরক করো না; নিশ্চয় শিরক হল বড় যুলুম’। ইমাম সাহেব মুসল্লিদের প্রশ্ন করেন শিরক করাকে আল্লাহ যুলুম বললেন কেন? তিনি বলেন, শিরক হলো আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করা। তাহলে কার উপর যুলুম করা হলো? আল্লাহ বলেন, ইন্নাল্লাহা লা ইয়াগফিরু আইয়ুশরাকাবিহি ওয়া ইয়াগফিরু মাদুনা যালিকা লিমাইয়্যাশাউ, ওয়া মাইয়ুশরিক বিল্লাহি ফাকাদিফতারা ইন্না মা আযীম। অর্থাৎ নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সাথে শরীক করাকে ক্ষমা করেন না। তিনি ক্ষমা করেন এ ছাড়া অন্যান্য পাপ, যার জন্য তিনি চান। আর যে আল্লাহর সাথে শরীক করে সে অবশ্যই মহাপাপ রচনা করে।

ইমাম সাহেব বলেন, আল্লাহ সৎ বান্দাদের জন্য যেমন বেহেস্ত তৈরি করেছেন, তেমনি নাফরমান বান্দাদের শাস্তি দেয়ার জন্য জাহান্নামও তৈরি করেছেন। কোন মানুষকে কেউ যদি চোখের সামনে মারপিট করে তা দেখতেও খুব কষ্ট হয়। আর যদি জীবন্ত কারো শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়, তবে সেটা সবচেয়ে বেশি ভয়াবহ। কিন্তু আল্লাহ শাস্তি হিসেবে এই ভয়াবহ আগুনই রেখেছেন। আল্লাহ হযরত আদম (আ:) কে বেহেস্তের একটি গাছের নিচে যেতে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু শয়তানের প্ররোচনায় হযরত আদম (আ:) সে গাছের নিচে গেলেন এবং তার ফলও খেলেন। এর শাস্তি যখন ভোগ করছিলেন তখন আল্লাহ তাকে এই বলে দোওয়া করতে শিখিয়ে দিলেন, রাব্বানা যালামনা আনফুসানা ওয়া ইল্লাম তাগফিরলানা ওয়া তারহামনা লানাকুনান্না মিনাল খাসিরীন। অর্থাৎ হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা নিজেদের প্রতি অন্যায় করেছি, তুমি যদি আমাদের ক্ষমা না করো, আমাদের প্রতি করুণা না করো তবে আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যাবো।

ইমাম সাহেব বলেন, আমরা যখন কোন পাপ করি, তার জন্য আগুনে পুড়ে শাস্তি পেতে হবে। কিন্তু যদি পাপ না করি, তাহলে শাস্তি পেতে হবেনা। অর্থাৎ পাপ করে আমরা নিজেদের প্রতিই যুলুম করি।

ইমাম সাহেব বলেন, হযরত লুকমান (আ:) তার ছেলেকে দ্বিতীয় যে উপদেশটি দিয়েছিলেন তা তার ছেলের জন্য এবং অন্য সবার জন্য। সেসম্পর্কে আল্লাহ বলেন, ওয়া ওয়াস সায়নাল ইনসানা বিওয়ালিদায়হি হামালাতহু উম্মুহু ওয়াহনান আ’লা ওয়াহনিও ওয়া ফিসালুহু ফি আমায়নি ইন্নাশকুরলি ওয়ালিওয়ালিদায়কা ইলাইয়্যাল মাসির। অর্থাৎ আর আমি মানুষকে তার মাতাপিতার ব্যাপারে (সদাচরণের) নির্দেশ দিয়েছি। তার মা কষ্টের পর কষ্ট ভোগ করে তাকে গর্ভে ধারণ করে। আর তার দুধ ছাড়ানো হয় দু’বছরে; সুতরাং আমার ও তোমার পিতা-মাতার শুকরিয়া আদায় কর। প্রত্যাবর্তন তো আমার কাছেই। ইমাম সাহেব বলেন, আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন তোমাদের পিতামাতার প্রতি ভালো আচরণ করতে থাকো। কিন্তু যদি কারো পিতামাতা আল্লাহর সাথে শরিক করতে বলেন তবে সেটা মানার প্রয়োজন নাই। কিন্তু তাদের সাথে সদ ব্যবহার করতে থাকতে হবে।

ইমাম সাহেব বলেন, আল্লাহ রাব্বুল আ’লামীন আমাদেরকে শাস্তি দিতে চাননা। তিনি অত্যন্ত দয়ালু। বরং মানুষই আল্লাহর নিয়ামত পেয়েও শুকরিয়া আদায় করেনা। যারা অসুখে পড়েছেন শুধু তারাই বুঝতে পারেন আল্লাহ আমাদের জীবনে কত বড় বড় নিয়ামত দান করেছেন। আমরা ফুসফুস দিয়ে নিশ^াশ নিই। কিন্তু আল্লাহ ইচ্ছা করলেই বাতাস নেয়া একটু কমিয়ে দিতে পারেন। তাহলেই মানুষের অস্বস্তি শুরু হয়ে যাবে। যেতে হবে হাসপাতালে। কেউ স্ট্রোক করলে কারো দুই সাইড আবার কারো এক সাইড পেরালাইসড হয়। মাত্র একটি রগে রক্ত চলাচল বন্ধ করে দিলে পুরো শরীর অচল হয়ে যায়। কারো মাথায় রক্তক্ষরণ হলে কি অবস্থা দাঁড়ায়। সুতরাং আমরা যারা সুস্থ্য আছি তারা তো আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করিনা। ঠিকমত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজও পরিনা। তার পরও আল্লাহ আমাদেরকে দয়া করেন।

আল্লাহ দয়ার একশ’ ভাগের মাত্র এক ভাগ মানুষকে দিয়েছেন। ৯৯ ভাগ দয়া রেখেছেন নিজের কাছে। হযরত মুসা (আ:) একবার আল্লাহকে বললেন, মানুষকে কতখানি দয়া দিয়েছেন তার একটি উদাহরণ দেন। তখন আল্লাহ বললেন, দেখ সাগরে একটি পাখি ঠোটে করে পানি পান করছে। ওই সাগরে যত পানি আছে সেটা আমার দয়া, আর পাখির ঠোটে যতটুকু পানি ধরেছে ততখানি দয়া মানুষকে দিয়েছি। আল্লাহ রাব্বুল আ’লামীন আমাদেরকে শিরক থেকে বাঁচার ও পিতামাতার সাথে ভালো আচরণ করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

—-শুনে শুনে লেখা : কাজী সাঈদ টিটো, ১.৯.২৩