নওগাঁ ০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার :
মহাদেবপুর দর্পণ.কম ও সাপ্তাহিক মহাদেবপুর দর্পণের পরীক্সষমূলক সম্প্রচারে আপনাকে স্বাগতম ## আপামর মেহনতি মানুষের অকুন্ঠ ভালোবাসায় সিক্ত নওগাঁর নিজস্ব পত্রিকা ## নওগাঁর ১১ উপজেলার সব খবর সবার আগে ## মহাদেবপুর দর্পণ একবার পড়ুন, ভালো না লাগলে আর পড়বেন না ## যেখানে অনিয়ম সেখানেই মহাদেবপুর দর্পণ ## যেখানে দূর্নীতি, অন্যায়, অবিচার সেখানেই মহাদেবপুর দর্পণ সব সময় সাধারণ মানুষের পাশে ## মহাদেবপুর দর্পণের ফেসবুক আইডিতে ফলো দিয়ে সঙ্গেই থাকি ##

এ সপ্তাহের খুৎবা : রসুল (স:) এর মত চরিত্র গঠন করতে হবে<<মহাদেবপুর দর্পণ>>

মহাদেবপুর দর্পণ : আজ শুক্রবার ২৫ আগষ্ট ২০২৩, ১৪৪৫ হিজরির সফর মাসের ৭ তারিখ। মাসের প্রথম খুৎবা। মহাদেবপুর উপজেলা সদরের কেন্দ্রীয় জামেহ মসজিদের খতিব উপাধ্যক্ষ মাওলানা মো: জিল্লুর রহমান জুম্মার নামাজের আগে বাংলায় খুৎবায় যে আলোচনা করেন তার সারাংশ মহাদেবপুর দর্পণের অগণিত পাঠক পাঠিকার জন্য পত্রস্থ করা হলো :

ইমাম সাহেব বলেন, রসুল (স:) ছিলেন সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী। তখন আরব দেশে কেউ তার চরিত্র সম্পর্কে এতটুকু খারাপ কথা বলতে পারেনি। অনেকেই ইসলাম ধর্মকে এবং হযরত মোহাম্মদ (স:) কে ভাল চোখে দেখতেন না। কিন্তু তারাও তাঁর চরিত্র ভাল বলেছেন। বিধর্মীরাও তাই বলেছেন। ভিন্নধর্মী অনেক মনিষি তখন তাঁকে উত্তম চরিত্রের অধিকারী বলেছেন। তাঁর সম্পর্কে মহান আল্লাহ রাব্বুল আ’লামীন বলেন, ‘ওয়া ইন্নাকা লাআ’লা খুলুকিন আজিম’। অর্থাৎ এবং নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের অধিকারী। ইমাম সাহেব বলেন, রসুল (স:) ছিলেন কোমল, নরম চরিত্রের অধিকারী। দয়াশীল, ক্ষমাশীল।

এপর্যায়ে ইমাম সাহেব বেশ কয়েকটি হাদিস পড়ে শোনান ও তার তরজমা করেন। তিনি বলেন, ‘আর রাহিমুনা ইয়ারহামু হুমুররাহমানুর হামু মান ফিল আরদি, ইয়ারহামকুম মান ফিস সামায়ি।’ অর্থাৎ যারা যমিনে আছে তাদেরকে দয়া কর, যিনি আকাশে আছেন তিনি তোমাদেরকে দয়া করবেন। যারা জমিনে আছে অর্থ মানুষ পশুপাখী ও অন্যান্য জীবযন্তু। শুধুমাত্র হিংস্র প্রাণি ছাড়া অন্য সকলকেই দয়া করতে বলা হয়েছে। ইমাম সাহেব বলেন, ‘মান ইয়ার হামিন নাসা ইয়ার হামহুল্লাহ’ অর্থাৎ যে মানুষের প্রতি দয়াশীল নয়, আল্লাহও তাকে দয়া করেন না।

ইমাম সাহেব বলেন, রসুল (স:) বলেছেন, ‘লায়সা মিন্না মান লাম ইয়ার হাম সাগিরানা ওয়া ইউওয়াক্কির কাবিরানা’ অর্থাৎ যে ছোটদের স্নেহ করা না ও বড়দের সম্মান করেনা সে আমার দলভূক্ত নয়। ইমাম সাহেব ব্যাখ্যা করেন এভাবে আমরা রাস্তাঘাটে ছোটদের ধমক দিবনা, কটু কথা বলবো না, গালমন্দ করবো না, তাদের মনে আঘাত দিবনা। যেসব শিশু মসজিদে আসে তাদের প্রতি দয়া করবো। কখনোই তাদেরকে দূরে যেতে বলবোনা। বরং কাছে রেখে সহযোগিতা করবো।

ইমাম সাহেব বলেন, রসুল (স:) বলেছেন, ‘মাকরামা সাব্বু শায়খান লিসিন্নিহি ইল্লা ক্কাইয়াদাল্লাহু লাহু মান ইয়ুকরিমুহু ইনদা সিন্নিহি’ অর্থাৎ যদি কোন যুবক কোন বৃদ্ধকে তার বয়সের কারণে সম্মান করে, তবে সে নিজে বৃদ্ধ হলে আল্লাহ তাকে সম্মান করার জন্য কাউকে নিযুক্ত করেন। তিনি বলেন, আমরা বাস ট্রেনে চলার সময় দেখি অনেক যুবক ভাই সিটে বসে আছেন। এসময় কোন বৃদ্ধ লোক সেখানে উঠলেন। ওই যুবক ভাই যদি দাঁড়িয়ে যান তবে তার কষ্ট কম হবে। কিন্তু বৃদ্ধ লোকটি দাঁড়িয়ে গেলে তার কষ্ট বেশি হবে। তাই যদি সম্মান করে ওই যুবকটি সিট থেকে উঠে ওই বৃদ্ধকে বসার ব্যবস্থা করে দেয় সেটাই হবে তাকে সম্মান করা। কোন সমাবেশে সভাপতি বা অন্য কারো জন্য রাখা নির্ধারিত আসন ছাড়া যদি কোন বৃদ্ধ মানুষ সেখানে আসেন তবে তার জন্য যুবকরা যদি আসন ছেড়ে দেন তবে সেটা হবে সম্মান করা। তবে রসুল (স:) কখনো তার জন্য নির্ধারিত জায়গা ছেড়ে দেননি। অন্য জায়গা ছেড়ে দেয়া উচিৎ হবে।

ইমাম সাহেব বলেন এই হাদিসের শেষে বলা হয়েছে আমর বিল মারুফ ও নাহি আনিল মুনকার, তোমরা সৎ কাজে আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ কর।

সবশেষে ইমাম সাহেব বলেন, রসুল (স:) বলেছেন, ‘সাবআ’তু ইউজিল্লুহুমুল্লাহু ফি জিল্লাহি ইয়াও মা লা জিল্লা ইল্লা জিল্লুহু। ইমামুন আদিলু। ওয়া শাব্বু নাশাফি ইবাদাহিল্লাহ তাআলা। ওয়া রাজুলুন ক্কালবুহু মুআল্লাকুন বিমাসাজিদি। ওয়া রাজুলানি তাহাব্বাফিল্লাহিজ তামাআ আলাইহি ওয়া তাফাররাকা আলায়হি। ওয়া রাজুলুন দাআতহুম রাতুযাতু মানসাবিন ওয়া জামালি। ফাক্কালা ইন্না খাফুল্লাহ। ওয়া রাজুলুন তাসাদ্দাকা বিসাদাকাতি। ফাকফাহা হাত্তা লা তা’লামা শিমালুহু মা তুনফিকু ইয়ামিনুহু। ওয়া রাজুলুন যাকারাল্লাহু খালিয়য়ান ফাফাসাত আয়নাহু।’ অর্থাৎ যে দিন আল্লাহর রহমতের ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া থাকবে না, সেদিন সাত ব্যক্তিকে আল্লাহ তাঁর নিজের আরশের ছায়ায় আশ্রয় দেবেন। ১. ন্যয়পরায়ণ বাদশাহ ২. প্রতিপালকের ইবাদতে যে যুবক জীবন গড়ে তুলেছে ৩. যার অন্তর মসজিদের সঙ্গে সম্পৃক্ত ৪. সে দুই ব্যক্তি যারা একমাত্র আল্লাহর জন্য পরস্পরকে ভালোবাসে আবার আল্লাহর জন্যই বিচ্ছেদ হয় ৫. যে উচ্চবংশীয় নারীর আহ্বান এই বলে প্রত্যাখ্যান করে যে, ‘আমি আল্লাহকে ভয় করি’ ৬. যে এতই গোপনে দান করে যে তার বাঁ হাত জানতে পারে না ডান হাত কী খরচ করেছে ৭. যে নির্জনে আল্লাহর যিকর করে বলে তার দুচোখ দিয়ে অশ্রুধারা বইতে থাকে।

ইমাম সাহেব বলেন, আল্লাহ রাব্বুল আ’লামীন আমাদেরকে এরকম উত্তম চরিত্রের অধিকারী হবার তৌফিক দান করুন। আমিন।

—শুনে শুনে লেখা : কাজী সাঈদ টিটো ২৫.৮.২৩

আপলোডকারীর তথ্য

সর্বোচ্চ পঠিত

এ সপ্তাহের খুৎবা : রসুল (স:) এর মত চরিত্র গঠন করতে হবে<<মহাদেবপুর দর্পণ>>

প্রকাশের সময় : ০৩:১২:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৩

মহাদেবপুর দর্পণ : আজ শুক্রবার ২৫ আগষ্ট ২০২৩, ১৪৪৫ হিজরির সফর মাসের ৭ তারিখ। মাসের প্রথম খুৎবা। মহাদেবপুর উপজেলা সদরের কেন্দ্রীয় জামেহ মসজিদের খতিব উপাধ্যক্ষ মাওলানা মো: জিল্লুর রহমান জুম্মার নামাজের আগে বাংলায় খুৎবায় যে আলোচনা করেন তার সারাংশ মহাদেবপুর দর্পণের অগণিত পাঠক পাঠিকার জন্য পত্রস্থ করা হলো :

ইমাম সাহেব বলেন, রসুল (স:) ছিলেন সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী। তখন আরব দেশে কেউ তার চরিত্র সম্পর্কে এতটুকু খারাপ কথা বলতে পারেনি। অনেকেই ইসলাম ধর্মকে এবং হযরত মোহাম্মদ (স:) কে ভাল চোখে দেখতেন না। কিন্তু তারাও তাঁর চরিত্র ভাল বলেছেন। বিধর্মীরাও তাই বলেছেন। ভিন্নধর্মী অনেক মনিষি তখন তাঁকে উত্তম চরিত্রের অধিকারী বলেছেন। তাঁর সম্পর্কে মহান আল্লাহ রাব্বুল আ’লামীন বলেন, ‘ওয়া ইন্নাকা লাআ’লা খুলুকিন আজিম’। অর্থাৎ এবং নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের অধিকারী। ইমাম সাহেব বলেন, রসুল (স:) ছিলেন কোমল, নরম চরিত্রের অধিকারী। দয়াশীল, ক্ষমাশীল।

এপর্যায়ে ইমাম সাহেব বেশ কয়েকটি হাদিস পড়ে শোনান ও তার তরজমা করেন। তিনি বলেন, ‘আর রাহিমুনা ইয়ারহামু হুমুররাহমানুর হামু মান ফিল আরদি, ইয়ারহামকুম মান ফিস সামায়ি।’ অর্থাৎ যারা যমিনে আছে তাদেরকে দয়া কর, যিনি আকাশে আছেন তিনি তোমাদেরকে দয়া করবেন। যারা জমিনে আছে অর্থ মানুষ পশুপাখী ও অন্যান্য জীবযন্তু। শুধুমাত্র হিংস্র প্রাণি ছাড়া অন্য সকলকেই দয়া করতে বলা হয়েছে। ইমাম সাহেব বলেন, ‘মান ইয়ার হামিন নাসা ইয়ার হামহুল্লাহ’ অর্থাৎ যে মানুষের প্রতি দয়াশীল নয়, আল্লাহও তাকে দয়া করেন না।

ইমাম সাহেব বলেন, রসুল (স:) বলেছেন, ‘লায়সা মিন্না মান লাম ইয়ার হাম সাগিরানা ওয়া ইউওয়াক্কির কাবিরানা’ অর্থাৎ যে ছোটদের স্নেহ করা না ও বড়দের সম্মান করেনা সে আমার দলভূক্ত নয়। ইমাম সাহেব ব্যাখ্যা করেন এভাবে আমরা রাস্তাঘাটে ছোটদের ধমক দিবনা, কটু কথা বলবো না, গালমন্দ করবো না, তাদের মনে আঘাত দিবনা। যেসব শিশু মসজিদে আসে তাদের প্রতি দয়া করবো। কখনোই তাদেরকে দূরে যেতে বলবোনা। বরং কাছে রেখে সহযোগিতা করবো।

ইমাম সাহেব বলেন, রসুল (স:) বলেছেন, ‘মাকরামা সাব্বু শায়খান লিসিন্নিহি ইল্লা ক্কাইয়াদাল্লাহু লাহু মান ইয়ুকরিমুহু ইনদা সিন্নিহি’ অর্থাৎ যদি কোন যুবক কোন বৃদ্ধকে তার বয়সের কারণে সম্মান করে, তবে সে নিজে বৃদ্ধ হলে আল্লাহ তাকে সম্মান করার জন্য কাউকে নিযুক্ত করেন। তিনি বলেন, আমরা বাস ট্রেনে চলার সময় দেখি অনেক যুবক ভাই সিটে বসে আছেন। এসময় কোন বৃদ্ধ লোক সেখানে উঠলেন। ওই যুবক ভাই যদি দাঁড়িয়ে যান তবে তার কষ্ট কম হবে। কিন্তু বৃদ্ধ লোকটি দাঁড়িয়ে গেলে তার কষ্ট বেশি হবে। তাই যদি সম্মান করে ওই যুবকটি সিট থেকে উঠে ওই বৃদ্ধকে বসার ব্যবস্থা করে দেয় সেটাই হবে তাকে সম্মান করা। কোন সমাবেশে সভাপতি বা অন্য কারো জন্য রাখা নির্ধারিত আসন ছাড়া যদি কোন বৃদ্ধ মানুষ সেখানে আসেন তবে তার জন্য যুবকরা যদি আসন ছেড়ে দেন তবে সেটা হবে সম্মান করা। তবে রসুল (স:) কখনো তার জন্য নির্ধারিত জায়গা ছেড়ে দেননি। অন্য জায়গা ছেড়ে দেয়া উচিৎ হবে।

ইমাম সাহেব বলেন এই হাদিসের শেষে বলা হয়েছে আমর বিল মারুফ ও নাহি আনিল মুনকার, তোমরা সৎ কাজে আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ কর।

সবশেষে ইমাম সাহেব বলেন, রসুল (স:) বলেছেন, ‘সাবআ’তু ইউজিল্লুহুমুল্লাহু ফি জিল্লাহি ইয়াও মা লা জিল্লা ইল্লা জিল্লুহু। ইমামুন আদিলু। ওয়া শাব্বু নাশাফি ইবাদাহিল্লাহ তাআলা। ওয়া রাজুলুন ক্কালবুহু মুআল্লাকুন বিমাসাজিদি। ওয়া রাজুলানি তাহাব্বাফিল্লাহিজ তামাআ আলাইহি ওয়া তাফাররাকা আলায়হি। ওয়া রাজুলুন দাআতহুম রাতুযাতু মানসাবিন ওয়া জামালি। ফাক্কালা ইন্না খাফুল্লাহ। ওয়া রাজুলুন তাসাদ্দাকা বিসাদাকাতি। ফাকফাহা হাত্তা লা তা’লামা শিমালুহু মা তুনফিকু ইয়ামিনুহু। ওয়া রাজুলুন যাকারাল্লাহু খালিয়য়ান ফাফাসাত আয়নাহু।’ অর্থাৎ যে দিন আল্লাহর রহমতের ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া থাকবে না, সেদিন সাত ব্যক্তিকে আল্লাহ তাঁর নিজের আরশের ছায়ায় আশ্রয় দেবেন। ১. ন্যয়পরায়ণ বাদশাহ ২. প্রতিপালকের ইবাদতে যে যুবক জীবন গড়ে তুলেছে ৩. যার অন্তর মসজিদের সঙ্গে সম্পৃক্ত ৪. সে দুই ব্যক্তি যারা একমাত্র আল্লাহর জন্য পরস্পরকে ভালোবাসে আবার আল্লাহর জন্যই বিচ্ছেদ হয় ৫. যে উচ্চবংশীয় নারীর আহ্বান এই বলে প্রত্যাখ্যান করে যে, ‘আমি আল্লাহকে ভয় করি’ ৬. যে এতই গোপনে দান করে যে তার বাঁ হাত জানতে পারে না ডান হাত কী খরচ করেছে ৭. যে নির্জনে আল্লাহর যিকর করে বলে তার দুচোখ দিয়ে অশ্রুধারা বইতে থাকে।

ইমাম সাহেব বলেন, আল্লাহ রাব্বুল আ’লামীন আমাদেরকে এরকম উত্তম চরিত্রের অধিকারী হবার তৌফিক দান করুন। আমিন।

—শুনে শুনে লেখা : কাজী সাঈদ টিটো ২৫.৮.২৩