নওগাঁ ০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার :
মহাদেবপুর দর্পণ.কম ও সাপ্তাহিক মহাদেবপুর দর্পণের পরীক্সষমূলক সম্প্রচারে আপনাকে স্বাগতম ## আপামর মেহনতি মানুষের অকুন্ঠ ভালোবাসায় সিক্ত নওগাঁর নিজস্ব পত্রিকা ## নওগাঁর ১১ উপজেলার সব খবর সবার আগে ## মহাদেবপুর দর্পণ একবার পড়ুন, ভালো না লাগলে আর পড়বেন না ## যেখানে অনিয়ম সেখানেই মহাদেবপুর দর্পণ ## যেখানে দূর্নীতি, অন্যায়, অবিচার সেখানেই মহাদেবপুর দর্পণ সব সময় সাধারণ মানুষের পাশে ## মহাদেবপুর দর্পণের ফেসবুক আইডিতে ফলো দিয়ে সঙ্গেই থাকি ##

এ সপ্তাহের খুৎবা : আল্লাহর সীমানায় পুরোপুরি প্রবেশ করতে হবে<<মহাদেবপুর দর্পণ>>

মহাদেবপুর দর্পণ, ৪ আগষ্ট ২০২৩ :

আজ ৪ আগষ্ট ২০২৩ শুক্রবার, ১৪৪৫ হিজরির মহররম মাসের ১৬ তারিখ। মাসের তৃতীয় খুৎবা। মহাদেবপুর উপজেলা সদরের কেন্দ্রীয় জামেহ মসজিদের খতিব উপাধ্যক্ষ মাওলানা মো: জিল্লুর রহমান আজ দুপুরে জুম্মার নামাজের আগে বাংলায় খুৎবায় যে আলোচনা করেন তার সারাংশ মহাদেবপুর দর্পণের অগণিত পাঠক পাঠিকার জন্য পত্রস্থ করা হলো :

আজ ইমাম সাহেব দুটি বিষয়ে আলোচনা করেন। এক. আল্লাহর এরিয়ার মধ্যে থাকা, দুই. অন্যের হক নষ্ট না করা। ইমাম সাহেব পবিত্র কোরআন শরিফ হাতে নিয়ে পাঠ করে তার তরজমা করেন। তিনি বলেন পৃথিবীতে দুইটি এরিয়া রয়েছে। একটা হচ্ছে আল্লাহর এরিয়া, আর একটি শয়তানের। আমাদেরকে পুরোপুরি আল্লাহর এরিয়ায় প্রবেশ করতে হবে। আল্লাহর সীমানায় প্রবেশ করা মানে তাঁর হুকুম পালন করা। বিনিময়ে রয়েছে জান্নাত। আর শয়তানের সীমানায় থাকা মানে শয়তানের হুকুম পালন করা। বিনিময় জাহান্নাম। কেউ কেউ কিছু অংশ আল্লাহর এরিয়ায় থাকেন, আবার কিছু অংশ থাকেন শয়তানের এরিয়ায়। এরা মোশরেক। এদের বিনিময়ও জাহান্নাম। রসুল (স:) এর একটি উদাহরণ উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, একটি উটকে ময়দানে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। রশিটি যত বড়, উটটি ততদূর পর্যন্ত যেতে পারবে। পাশে যদি গম বা ধানের ক্ষেত থাকে দড়ি বড় হলে উটটি সে ফসল খেতে পারবে। সুতরাং রশিটি হতে হবে মাপ মত। আমাদেরকে আল্লাহর সীমানার মধ্যে প্রবেশ করে শয়তানের সীমানা থেকে দূরে থাকতে হবে।

ইমাম সাহেব বলেন রসুল (স:) একজন সাহাবীকে প্রশ্ন করলেন, সবচেয়ে মিসকিন কে? সাহাবী বললেন যার ধনসম্পদ নেই সে। রসুল (স:) বললেন, যে প্রচুর নেকি অর্জন করেছে কিন্তু অন্যের হক নষ্ট করেছে সেইই হচ্ছে সবচেয়ে মিসকিন। ইমাম সাহেব পবিত্র কোরআন শরিফের আয়াত পাঠ করে বলেন, গুনাহ দুই রকম। এক. ছগিরা দুই. কবিরা। জুম্মার নামাজ আদায় করলে এক জুম্মা থেকে পরের জুম্মা পর্যন্ত বান্দা যত ছগিরা গুনাহ করে তা মাফ করে দেয়া হয়। কিন্তু কবিরা গুনাহ মাফ নিতে হলে তওবা করতে হয়। কবিরা গুনাহ আবার দুরকম। একটা হচ্ছে হক্কুল্লাহ্, আর একটা হক্কুল ইবাদ। বান্দা আল্লাহ্র বড় হুকুম অমান্য করলে যেমন শেরক করলে যে কবিরা গুনাহ হয় সেটা তওবা করলে মাফ হতে পারে। কিন্তু কোন বান্দার হক নষ্ট করলে বা পাওনা পরিশোধ না করলে যে গুনাহ হয় তা আল্লাহ্র কাছে মাফ চাইলে চলবে না। বরং ওই বান্দার কাছেই মাফ চাইতে হবে। বান্দা মাফ করলে আল্লাহ্ও মাফ করবেন। রসুল (স:) বলেন, একজন বান্দা অনেক নেকি নিয়ে মারা গেলেন। হাসরের ময়দানে দেখা যাবে তার অনেক পাওনাদার রয়েছে। আল্লাহ্ তাকে সে পাওনা পরিশোধ করতে বলবেন। পাওনাগুলো নেকি দিয়ে শোধ করা হবে। নেকি সব শেষ হলে পাওনাদারের গুনাহ নিয়ে পাওনা শোধ করতে হবে। সব পাওনা মিটিয়ে দেখা যাবে তার নেক আমল শেষ, এখন শুধু গুনাহ আর গুনাহ। তার ঠাঁই হবে জাহান্নামে। সুতরং সেইই সবচেয়ে মিসকিন।

ইমাম সাহেব বলেন, হযরত মুসা (আ:) আল্লাহর সাথে সরাসরি কথা বলতেন। এজন্য তাঁকে বলা হয় কালিমুল্লাহ। একবার তিনি প্রশ্ন করলেন আল্লাহ্ আপনি যে হক বিচার করেন তার একটি নমুনা দেখান। আল্লাহ্ তাকে একটি গাছের উপর উঠে চুপচাপ বসে থাকতে বললেন। সে পথ দিয়ে একজন ঘোড়সওয়ার এসে গাছের কাছে নেমে পুকুরে পানি পান করে আবার চলে গেলেন। যাবার সময় তার পকেট থেকে ম্যানিব্যাগ পড়ে গেল। আর একজন এসে সে ম্যানিব্যাগ তুলে নিয়ে চলে গেলেন। শেষে একজন অন্ধ লোক সেখানে আসলেন। এসময় প্রথম ঘোড়সওয়ার ফিরে এসে তার ম্যানিব্যাগ খুঁজলেন। না পেয়ে ওই অন্ধ লোকটিকে দোষারুপ করলেন। এক পর্যায়ে ম্যানিব্যাগ নিয়ে কোথায় লুকিয়ে রেখেছে তা জানতে চেয়ে বেদম প্রহার করেন। তার প্রহারে অন্ধ লোকটির মৃত্যু হয়। আল্লাহ্ হযরত মুসা (আ:) কে বলেন, প্রথম ঘোড়সওয়ার একজন যোদ্ধা। সে দ্বিতীয় ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নিয়ে ফেরৎ দেয়নি। তাই সমপরিমাণ টাকাসহ ম্যানিব্যাগ তাকে দেয়া হয়েছে। আর অন্ধ ব্যক্তির বাবা প্রথম ঘোড়সওয়ারির পিতাকে হত্যা করেছিলেন। তাই তারও সেই পরিণতি হয়েছে। আল্লাহ্ রাব্বুল আমাদেরকে তাঁর সীমানার মধ্যে পুরোপুরি প্রবেশ করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

—শুনে শুনে লেখা সাঈদ টিটো

আপলোডকারীর তথ্য

সর্বোচ্চ পঠিত

এ সপ্তাহের খুৎবা : আল্লাহর সীমানায় পুরোপুরি প্রবেশ করতে হবে<<মহাদেবপুর দর্পণ>>

প্রকাশের সময় : ০৮:০৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ অগাস্ট ২০২৩

মহাদেবপুর দর্পণ, ৪ আগষ্ট ২০২৩ :

আজ ৪ আগষ্ট ২০২৩ শুক্রবার, ১৪৪৫ হিজরির মহররম মাসের ১৬ তারিখ। মাসের তৃতীয় খুৎবা। মহাদেবপুর উপজেলা সদরের কেন্দ্রীয় জামেহ মসজিদের খতিব উপাধ্যক্ষ মাওলানা মো: জিল্লুর রহমান আজ দুপুরে জুম্মার নামাজের আগে বাংলায় খুৎবায় যে আলোচনা করেন তার সারাংশ মহাদেবপুর দর্পণের অগণিত পাঠক পাঠিকার জন্য পত্রস্থ করা হলো :

আজ ইমাম সাহেব দুটি বিষয়ে আলোচনা করেন। এক. আল্লাহর এরিয়ার মধ্যে থাকা, দুই. অন্যের হক নষ্ট না করা। ইমাম সাহেব পবিত্র কোরআন শরিফ হাতে নিয়ে পাঠ করে তার তরজমা করেন। তিনি বলেন পৃথিবীতে দুইটি এরিয়া রয়েছে। একটা হচ্ছে আল্লাহর এরিয়া, আর একটি শয়তানের। আমাদেরকে পুরোপুরি আল্লাহর এরিয়ায় প্রবেশ করতে হবে। আল্লাহর সীমানায় প্রবেশ করা মানে তাঁর হুকুম পালন করা। বিনিময়ে রয়েছে জান্নাত। আর শয়তানের সীমানায় থাকা মানে শয়তানের হুকুম পালন করা। বিনিময় জাহান্নাম। কেউ কেউ কিছু অংশ আল্লাহর এরিয়ায় থাকেন, আবার কিছু অংশ থাকেন শয়তানের এরিয়ায়। এরা মোশরেক। এদের বিনিময়ও জাহান্নাম। রসুল (স:) এর একটি উদাহরণ উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, একটি উটকে ময়দানে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। রশিটি যত বড়, উটটি ততদূর পর্যন্ত যেতে পারবে। পাশে যদি গম বা ধানের ক্ষেত থাকে দড়ি বড় হলে উটটি সে ফসল খেতে পারবে। সুতরাং রশিটি হতে হবে মাপ মত। আমাদেরকে আল্লাহর সীমানার মধ্যে প্রবেশ করে শয়তানের সীমানা থেকে দূরে থাকতে হবে।

ইমাম সাহেব বলেন রসুল (স:) একজন সাহাবীকে প্রশ্ন করলেন, সবচেয়ে মিসকিন কে? সাহাবী বললেন যার ধনসম্পদ নেই সে। রসুল (স:) বললেন, যে প্রচুর নেকি অর্জন করেছে কিন্তু অন্যের হক নষ্ট করেছে সেইই হচ্ছে সবচেয়ে মিসকিন। ইমাম সাহেব পবিত্র কোরআন শরিফের আয়াত পাঠ করে বলেন, গুনাহ দুই রকম। এক. ছগিরা দুই. কবিরা। জুম্মার নামাজ আদায় করলে এক জুম্মা থেকে পরের জুম্মা পর্যন্ত বান্দা যত ছগিরা গুনাহ করে তা মাফ করে দেয়া হয়। কিন্তু কবিরা গুনাহ মাফ নিতে হলে তওবা করতে হয়। কবিরা গুনাহ আবার দুরকম। একটা হচ্ছে হক্কুল্লাহ্, আর একটা হক্কুল ইবাদ। বান্দা আল্লাহ্র বড় হুকুম অমান্য করলে যেমন শেরক করলে যে কবিরা গুনাহ হয় সেটা তওবা করলে মাফ হতে পারে। কিন্তু কোন বান্দার হক নষ্ট করলে বা পাওনা পরিশোধ না করলে যে গুনাহ হয় তা আল্লাহ্র কাছে মাফ চাইলে চলবে না। বরং ওই বান্দার কাছেই মাফ চাইতে হবে। বান্দা মাফ করলে আল্লাহ্ও মাফ করবেন। রসুল (স:) বলেন, একজন বান্দা অনেক নেকি নিয়ে মারা গেলেন। হাসরের ময়দানে দেখা যাবে তার অনেক পাওনাদার রয়েছে। আল্লাহ্ তাকে সে পাওনা পরিশোধ করতে বলবেন। পাওনাগুলো নেকি দিয়ে শোধ করা হবে। নেকি সব শেষ হলে পাওনাদারের গুনাহ নিয়ে পাওনা শোধ করতে হবে। সব পাওনা মিটিয়ে দেখা যাবে তার নেক আমল শেষ, এখন শুধু গুনাহ আর গুনাহ। তার ঠাঁই হবে জাহান্নামে। সুতরং সেইই সবচেয়ে মিসকিন।

ইমাম সাহেব বলেন, হযরত মুসা (আ:) আল্লাহর সাথে সরাসরি কথা বলতেন। এজন্য তাঁকে বলা হয় কালিমুল্লাহ। একবার তিনি প্রশ্ন করলেন আল্লাহ্ আপনি যে হক বিচার করেন তার একটি নমুনা দেখান। আল্লাহ্ তাকে একটি গাছের উপর উঠে চুপচাপ বসে থাকতে বললেন। সে পথ দিয়ে একজন ঘোড়সওয়ার এসে গাছের কাছে নেমে পুকুরে পানি পান করে আবার চলে গেলেন। যাবার সময় তার পকেট থেকে ম্যানিব্যাগ পড়ে গেল। আর একজন এসে সে ম্যানিব্যাগ তুলে নিয়ে চলে গেলেন। শেষে একজন অন্ধ লোক সেখানে আসলেন। এসময় প্রথম ঘোড়সওয়ার ফিরে এসে তার ম্যানিব্যাগ খুঁজলেন। না পেয়ে ওই অন্ধ লোকটিকে দোষারুপ করলেন। এক পর্যায়ে ম্যানিব্যাগ নিয়ে কোথায় লুকিয়ে রেখেছে তা জানতে চেয়ে বেদম প্রহার করেন। তার প্রহারে অন্ধ লোকটির মৃত্যু হয়। আল্লাহ্ হযরত মুসা (আ:) কে বলেন, প্রথম ঘোড়সওয়ার একজন যোদ্ধা। সে দ্বিতীয় ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নিয়ে ফেরৎ দেয়নি। তাই সমপরিমাণ টাকাসহ ম্যানিব্যাগ তাকে দেয়া হয়েছে। আর অন্ধ ব্যক্তির বাবা প্রথম ঘোড়সওয়ারির পিতাকে হত্যা করেছিলেন। তাই তারও সেই পরিণতি হয়েছে। আল্লাহ্ রাব্বুল আমাদেরকে তাঁর সীমানার মধ্যে পুরোপুরি প্রবেশ করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

—শুনে শুনে লেখা সাঈদ টিটো