নওগাঁ ০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার :
মহাদেবপুর দর্পণ.কম ও সাপ্তাহিক মহাদেবপুর দর্পণের পরীক্সষমূলক সম্প্রচারে আপনাকে স্বাগতম ## আপামর মেহনতি মানুষের অকুন্ঠ ভালোবাসায় সিক্ত নওগাঁর নিজস্ব পত্রিকা ## নওগাঁর ১১ উপজেলার সব খবর সবার আগে ## মহাদেবপুর দর্পণ একবার পড়ুন, ভালো না লাগলে আর পড়বেন না ## যেখানে অনিয়ম সেখানেই মহাদেবপুর দর্পণ ## যেখানে দূর্নীতি, অন্যায়, অবিচার সেখানেই মহাদেবপুর দর্পণ সব সময় সাধারণ মানুষের পাশে ## মহাদেবপুর দর্পণের ফেসবুক আইডিতে ফলো দিয়ে সঙ্গেই থাকি ##

এ সপ্তাহের খুৎবা : খাদ্যে ভেজাল দানকারি হত্যার শাস্তি পাবে<<মহাদেবপুর দর্পণ>>

মহাদেবপুর দর্পণ, মহাদেবপুর (নওগাঁ), ৫ মে ২০২৩ :

আজ ৫ মে ২০২৩ শুক্রবার, ১৪৪৪ হিজরির শাওয়াল মাসের ১৪ তারিখ। মাসের দ্বিতীয় খুৎবা। নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলা কেন্দ্রীয় জামেহ মসজিদের খতিব উপাধ্যক্ষ মাওলানা মো: জিল্লুর রহমান আজ দুপুরে জুম্মার নামাজের আগে বাংলায় খুৎবায় যে আলোচনা করেন তার সারাংশ মহাদেবপুর দর্পণের অগণিত পাঠক পাঠিকার জন্য পত্রস্থ করা হলো :

আজ ইমাম সাহেব দুটি বিষয়ে আলোচনা করেন। এক. মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি কি, দুই. পবিত্রতা।

এক.
ইমাম সাহেব সাম্প্রতিক কয়েকটি মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, আজ মহাদেবপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বার একরামুল ইসলাম ও শেরপুর গ্রামের আহাদ আলী ইন্তেকাল করেছেন। গত কয়েক দিনে উপজেলা সদরে আরো কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। এটা মৃত্যুর মিছিল না হলেও উল্লেখ করার মত। এদের অনেকেরই বয়স অল্প। তিনি বলেন, মৃত্যুর কোন বয়স নেই। কেউ বেশি বয়সে রোগে আক্রান্ত হয়ে অনেক দিন ধরে চিকিৎসা নিয়ে তারপর মারা যাচ্ছেন। আবার কেউ একদম সুস্থ্য অবস্থায় হঠাৎ অসুস্থ্য হয়ে মারা যাচ্ছেন। তারা যে দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ্য ছিলেন তা জানাও যায়নি। মূল কথা কার কখন মৃত্যু আসবে তা কেউ জানেন না। সুতরাং মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে।
ইমাম সাহেব পবিত্র কোরআন মজিদ হাতে নিয়ে তেলওয়াত করে তার তরজমা করেন। তিনি বলেন, প্রত্যেকের মৃত্যুর পর কবর, ৫০ হাজার বছরের হাসর, তারপর মিজানে হিসাব নিকাশ আর পুলসিরাত পারি দিতে হবে। এসব ভালভাবে পার হতে হলে যা দরকার তা হলো নেক আমল। মৃত্যুর প্রস্তুতির জন্য আমাদেরকে দুটি কাজ করতে হবে। এক, নেক আমল, আর দুই, খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকা।

ইমাম সাহেব বলেন, কেউ নামাজরত অবস্থায় মারা গেলেন, তিনি নামাজের সওয়াব পেতেই থাকবেন। অন্য একজন জোহরের নামাজ আদায় করে আছরের নামাজের নিয়ত করলেন। প্রস্তুতিও নিলেন। কিন্তু আছরের নামাজের আগেই তার মৃত্যু হলো। তিনিও নামাজ আদায় করতে করতে মৃত্যুবরণকারির সমান মরতবা পাবেন। সুতরাং আমাদেরকে নেক আমল করার নিয়ত করতে হবে এমন আমল করতে থাকতে হবে।

ইমাম সাহেব বলেন, মহাদেবপুর উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনকারি চকচাঁন গ্রামের এস, এম, রেজা ভাই ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন এবং মহাদেবপুর বাসস্ট্যান্ড জামেহ মসজিদের সাবেক ইমাম মাওলানা সেকেন্দার আলী লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁরা দোওয়া চেয়েছেন।

ইমাম সাহেব বলেন, যারা দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হন তাদের কোন না কোন কারণ রয়েছে। হতে পারে ভেজাল খাদ্য গ্রহণের জন্য তারা এসব রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। আমরা জানি রাসুল (স:) জিহাদে গিয়ে শহীদ হননি। কিন্তু তবুও তিনি শহীদের মারতবা লাভ করবেন। কারণ একবার ইহুদিরা দাওয়াত দিয়ে তাঁর খাবারের সাথে বিষ মিশিয়ে দিয়েছিলেন। রাসুল (স:) দোওয়া পড়ে সে খাবার গ্রহণ করেছিলেন বলে বিষক্রিয়া নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু সামান্য বিষ অবশিষ্ট ছিল। এটার ক্রিয়ায় তিনি রোগাক্রান্ত হয়েছিলেন। একারণে তিনি শহীদের মারতবা পাবেন। সুতরাং কেউ যদি খাবারে ভেজাল দেন, আর সেকারণে কারও অসুখ হয়, সে অসুখে তিনি মারা যান, তবে একদিকে তিনিও শহীদের মারতবা পাবেন। অন্যদিকে ভেজাল দানকারি হত্যাকারির শাস্তি পাবেন।

দুই.
ইমাম সাহেব পবিত্র কোরআন শরিফের সুরা তাওবা থেকে তেলওয়াত করে তরজমা করেন। তিনি বলেন, আল্লাহ রাব্বুল আ’লামিন পবিত্রতা পছন্দ করেন। পবিত্রতা ঈমানের অঙ্গ। রাসুল (স:) ও তাঁর সাহাবিরা সব সময় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন ও পবিত্র থাকতেন। রাসুল (স:) সব সময় পরিস্কার কাপড় পরিধান করতেন। নিজেও পরিস্কার থাকতেন। সুগন্ধি মাখতেন। মাথার চুল পরিপাটি রাখতেন। চুল আচড়ানোর জন্য পকেটে একটি চিরুনি রাখতেন। ইমাম সাহেব বলেন, পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকা আর পবিত্র থাকা এক নয়। একজন মানুষ পরিস্কার জামা কাপড় পরিধান করেছেন। কিন্তু প্রোস্রাব করে পানি নেননি। এই অবস্থায় তিনি বাইরে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকলেও পবিত্র নন। তিনি এ সংক্রান্ত একটি হাদিস উল্লেখ করেন।

হাদিসের সারাংস-একবার রাসুল (স:) সাহাবিদের নিয়ে একটি কবরস্থানের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। এসময় তিনি দুটি কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দোওয়া করেন ও সেগুলোতে খেজুরের ডাল পুঁতে দেন। সাহাবিদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কবর দুটিতে আজাব হচ্ছিল। প্রথমটিতে প্রোস্রাব করে পানি না নেয়ার জন্য আর দ্বিতীয়টিতে গীবত করার জন্য। তিনি কোরআনের একটি আয়াত তেলওয়াত করে তরজমা করেন, প্রত্যেক জীব ও জড়বস্তু আল্লাহ তা’লার পবিত্রতা বর্ণনা করে, তাসবিহ তেলওয়াত করে, জেকের করে। এজন্যই আমরা কবরে খেজুরের ডাল পুঁতে দিই। ডাল যতদিন তাজা থাকবে অন্তত ততদিন তসবিহ তেলওয়াতের কারণে কবর আজাব কম হবে।

ইমাম সাহেব বলেন, একজন মুরুব্বি এই বিষয়টি নিয়ে তাঁকে জুম্মার খুৎবায় আলোচনা করতে বলেছেন। কেননা ওই মুরুব্বি মহাদেবপুর জামেহ মসজিদের টয়লেটে কয়েকজনকে দাঁড়িয়ে প্রোস্রাব করতে দেখেছেন। আজকে তিনি এব্যাপারে একজনকে জিজ্ঞাসা করেও কোন জবাব পাননি। দাঁড়িয়ে প্রোস্রাব করায় তার পায়ে ও প্যান্টের নিচে প্রোস্রাবের ছিটা পড়েছে। কিন্তু সেটা পরিস্কার না করেই শুধু ওজু করে তিনি মসজিদে নামাজ আদায় করেছেন। ইমাম সাহেব বলেন, দাঁড়িয়ে প্রোস্রাব করা হারাম। রাসুল (স:) মাত্র একবার দাঁড়িয়ে প্রোস্রাব করেছেন। কিন্তু সেটি অনুসরণীয় নয়। কারণ এটা তিনি করেছিলেন বেকায়দায় পড়ে। এক কওমের নিকট গিয়ে তাঁর প্রোস্রাবের বেগ পেলে তিনি একটি ময়লা ফেলার স্থানে গিয়ে প্রোস্রাব করতে বাধ্য হন। সেখানে বসতে গেলে ময়লা তাঁর কাপড়ে মেখে যেত।

ইমাম সাহেব সকলকে মৃত্যুর প্রস্তুতির জন্য নেক আমল করার নিয়ত করা ও নেক আমল করতে থাকা আর পবিত্র থাকার জন্য মহান আল্লাহ রাব্বুল আ’লামিনের তাওফিক কামনা করেন।
—-অনুলিখন : কাজী সাঈদ টিটো, সম্পাদক-মহাদেবপুর দর্পণ, ৫.৫.২০২৩

আপলোডকারীর তথ্য

সর্বোচ্চ পঠিত

এ সপ্তাহের খুৎবা : খাদ্যে ভেজাল দানকারি হত্যার শাস্তি পাবে<<মহাদেবপুর দর্পণ>>

প্রকাশের সময় : ১২:৫২:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ মে ২০২৩

মহাদেবপুর দর্পণ, মহাদেবপুর (নওগাঁ), ৫ মে ২০২৩ :

আজ ৫ মে ২০২৩ শুক্রবার, ১৪৪৪ হিজরির শাওয়াল মাসের ১৪ তারিখ। মাসের দ্বিতীয় খুৎবা। নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলা কেন্দ্রীয় জামেহ মসজিদের খতিব উপাধ্যক্ষ মাওলানা মো: জিল্লুর রহমান আজ দুপুরে জুম্মার নামাজের আগে বাংলায় খুৎবায় যে আলোচনা করেন তার সারাংশ মহাদেবপুর দর্পণের অগণিত পাঠক পাঠিকার জন্য পত্রস্থ করা হলো :

আজ ইমাম সাহেব দুটি বিষয়ে আলোচনা করেন। এক. মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি কি, দুই. পবিত্রতা।

এক.
ইমাম সাহেব সাম্প্রতিক কয়েকটি মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, আজ মহাদেবপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বার একরামুল ইসলাম ও শেরপুর গ্রামের আহাদ আলী ইন্তেকাল করেছেন। গত কয়েক দিনে উপজেলা সদরে আরো কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। এটা মৃত্যুর মিছিল না হলেও উল্লেখ করার মত। এদের অনেকেরই বয়স অল্প। তিনি বলেন, মৃত্যুর কোন বয়স নেই। কেউ বেশি বয়সে রোগে আক্রান্ত হয়ে অনেক দিন ধরে চিকিৎসা নিয়ে তারপর মারা যাচ্ছেন। আবার কেউ একদম সুস্থ্য অবস্থায় হঠাৎ অসুস্থ্য হয়ে মারা যাচ্ছেন। তারা যে দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ্য ছিলেন তা জানাও যায়নি। মূল কথা কার কখন মৃত্যু আসবে তা কেউ জানেন না। সুতরাং মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে।
ইমাম সাহেব পবিত্র কোরআন মজিদ হাতে নিয়ে তেলওয়াত করে তার তরজমা করেন। তিনি বলেন, প্রত্যেকের মৃত্যুর পর কবর, ৫০ হাজার বছরের হাসর, তারপর মিজানে হিসাব নিকাশ আর পুলসিরাত পারি দিতে হবে। এসব ভালভাবে পার হতে হলে যা দরকার তা হলো নেক আমল। মৃত্যুর প্রস্তুতির জন্য আমাদেরকে দুটি কাজ করতে হবে। এক, নেক আমল, আর দুই, খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকা।

ইমাম সাহেব বলেন, কেউ নামাজরত অবস্থায় মারা গেলেন, তিনি নামাজের সওয়াব পেতেই থাকবেন। অন্য একজন জোহরের নামাজ আদায় করে আছরের নামাজের নিয়ত করলেন। প্রস্তুতিও নিলেন। কিন্তু আছরের নামাজের আগেই তার মৃত্যু হলো। তিনিও নামাজ আদায় করতে করতে মৃত্যুবরণকারির সমান মরতবা পাবেন। সুতরাং আমাদেরকে নেক আমল করার নিয়ত করতে হবে এমন আমল করতে থাকতে হবে।

ইমাম সাহেব বলেন, মহাদেবপুর উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনকারি চকচাঁন গ্রামের এস, এম, রেজা ভাই ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন এবং মহাদেবপুর বাসস্ট্যান্ড জামেহ মসজিদের সাবেক ইমাম মাওলানা সেকেন্দার আলী লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁরা দোওয়া চেয়েছেন।

ইমাম সাহেব বলেন, যারা দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হন তাদের কোন না কোন কারণ রয়েছে। হতে পারে ভেজাল খাদ্য গ্রহণের জন্য তারা এসব রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। আমরা জানি রাসুল (স:) জিহাদে গিয়ে শহীদ হননি। কিন্তু তবুও তিনি শহীদের মারতবা লাভ করবেন। কারণ একবার ইহুদিরা দাওয়াত দিয়ে তাঁর খাবারের সাথে বিষ মিশিয়ে দিয়েছিলেন। রাসুল (স:) দোওয়া পড়ে সে খাবার গ্রহণ করেছিলেন বলে বিষক্রিয়া নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু সামান্য বিষ অবশিষ্ট ছিল। এটার ক্রিয়ায় তিনি রোগাক্রান্ত হয়েছিলেন। একারণে তিনি শহীদের মারতবা পাবেন। সুতরাং কেউ যদি খাবারে ভেজাল দেন, আর সেকারণে কারও অসুখ হয়, সে অসুখে তিনি মারা যান, তবে একদিকে তিনিও শহীদের মারতবা পাবেন। অন্যদিকে ভেজাল দানকারি হত্যাকারির শাস্তি পাবেন।

দুই.
ইমাম সাহেব পবিত্র কোরআন শরিফের সুরা তাওবা থেকে তেলওয়াত করে তরজমা করেন। তিনি বলেন, আল্লাহ রাব্বুল আ’লামিন পবিত্রতা পছন্দ করেন। পবিত্রতা ঈমানের অঙ্গ। রাসুল (স:) ও তাঁর সাহাবিরা সব সময় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন ও পবিত্র থাকতেন। রাসুল (স:) সব সময় পরিস্কার কাপড় পরিধান করতেন। নিজেও পরিস্কার থাকতেন। সুগন্ধি মাখতেন। মাথার চুল পরিপাটি রাখতেন। চুল আচড়ানোর জন্য পকেটে একটি চিরুনি রাখতেন। ইমাম সাহেব বলেন, পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকা আর পবিত্র থাকা এক নয়। একজন মানুষ পরিস্কার জামা কাপড় পরিধান করেছেন। কিন্তু প্রোস্রাব করে পানি নেননি। এই অবস্থায় তিনি বাইরে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকলেও পবিত্র নন। তিনি এ সংক্রান্ত একটি হাদিস উল্লেখ করেন।

হাদিসের সারাংস-একবার রাসুল (স:) সাহাবিদের নিয়ে একটি কবরস্থানের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। এসময় তিনি দুটি কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দোওয়া করেন ও সেগুলোতে খেজুরের ডাল পুঁতে দেন। সাহাবিদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কবর দুটিতে আজাব হচ্ছিল। প্রথমটিতে প্রোস্রাব করে পানি না নেয়ার জন্য আর দ্বিতীয়টিতে গীবত করার জন্য। তিনি কোরআনের একটি আয়াত তেলওয়াত করে তরজমা করেন, প্রত্যেক জীব ও জড়বস্তু আল্লাহ তা’লার পবিত্রতা বর্ণনা করে, তাসবিহ তেলওয়াত করে, জেকের করে। এজন্যই আমরা কবরে খেজুরের ডাল পুঁতে দিই। ডাল যতদিন তাজা থাকবে অন্তত ততদিন তসবিহ তেলওয়াতের কারণে কবর আজাব কম হবে।

ইমাম সাহেব বলেন, একজন মুরুব্বি এই বিষয়টি নিয়ে তাঁকে জুম্মার খুৎবায় আলোচনা করতে বলেছেন। কেননা ওই মুরুব্বি মহাদেবপুর জামেহ মসজিদের টয়লেটে কয়েকজনকে দাঁড়িয়ে প্রোস্রাব করতে দেখেছেন। আজকে তিনি এব্যাপারে একজনকে জিজ্ঞাসা করেও কোন জবাব পাননি। দাঁড়িয়ে প্রোস্রাব করায় তার পায়ে ও প্যান্টের নিচে প্রোস্রাবের ছিটা পড়েছে। কিন্তু সেটা পরিস্কার না করেই শুধু ওজু করে তিনি মসজিদে নামাজ আদায় করেছেন। ইমাম সাহেব বলেন, দাঁড়িয়ে প্রোস্রাব করা হারাম। রাসুল (স:) মাত্র একবার দাঁড়িয়ে প্রোস্রাব করেছেন। কিন্তু সেটি অনুসরণীয় নয়। কারণ এটা তিনি করেছিলেন বেকায়দায় পড়ে। এক কওমের নিকট গিয়ে তাঁর প্রোস্রাবের বেগ পেলে তিনি একটি ময়লা ফেলার স্থানে গিয়ে প্রোস্রাব করতে বাধ্য হন। সেখানে বসতে গেলে ময়লা তাঁর কাপড়ে মেখে যেত।

ইমাম সাহেব সকলকে মৃত্যুর প্রস্তুতির জন্য নেক আমল করার নিয়ত করা ও নেক আমল করতে থাকা আর পবিত্র থাকার জন্য মহান আল্লাহ রাব্বুল আ’লামিনের তাওফিক কামনা করেন।
—-অনুলিখন : কাজী সাঈদ টিটো, সম্পাদক-মহাদেবপুর দর্পণ, ৫.৫.২০২৩