নওগাঁ ০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার :
মহাদেবপুর দর্পণ.কম ও সাপ্তাহিক মহাদেবপুর দর্পণের পরীক্সষমূলক সম্প্রচারে আপনাকে স্বাগতম ## আপামর মেহনতি মানুষের অকুন্ঠ ভালোবাসায় সিক্ত নওগাঁর নিজস্ব পত্রিকা ## নওগাঁর ১১ উপজেলার সব খবর সবার আগে ## মহাদেবপুর দর্পণ একবার পড়ুন, ভালো না লাগলে আর পড়বেন না ## যেখানে অনিয়ম সেখানেই মহাদেবপুর দর্পণ ## যেখানে দূর্নীতি, অন্যায়, অবিচার সেখানেই মহাদেবপুর দর্পণ সব সময় সাধারণ মানুষের পাশে ## মহাদেবপুর দর্পণের ফেসবুক আইডিতে ফলো দিয়ে সঙ্গেই থাকি ##

পোরশায় পানি নেই পূনর্ভবায় ধু-ধু বালুচর<<মহাদেবপুর দর্পণ>>

মহাদেবপুর দর্পণ, এম রইচ উদ্দিন, স্টাফ রিপোর্টার, পোরশা (নওগাঁ), ১৮ মার্চ ২০২৩ :

নওগাঁর পোরশা উপজেলার নিতপুর সীমান্ত দিয়ে বয়ে যাওয়া এক সময়ের উত্তাল পূনর্ভবায় পানি নেই। নাব্যতা হারিয়ে এখন বালুচরে পরিণত হয়েছে। ফলে ধু-ধু এ খরায় এর তলদেশ খেলার মাঠ হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। নদিতে পানি না থাকায় কয়েক হাজার হেক্টর জমির বোরো ধানের ক্ষতির আশংকা দেখা দিয়েছে।

নদিটিতে এক সময় ঢেউয়ের তালে চলাচল করতো অসংখ্য পাল তোলা নৌকা, লঞ্চ, ষ্টিমার। মাঝিরা নৌকা নিয়ে ছুটে চলতো গোমস্তাপুর, রহনপুর, নাচোল, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ দেশের অন্যান্য উপজেলার ব্যবসা কেন্দ্রগুলোতে। ওইসব উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠা বড় বড় হাট বাজারে ব্যবসার জন্য বিভিন্ন পন্য নিয়ে ব্যবসায়ীরা তাদের ছোট বড় নৌকায় পাল তুলে ছুটে চলতেন। শুধু পন্যই নয় হাটবাজারে বিক্রির জন্য তারা নিয়ে যেতেন গরু, মোষ, ছাগল, ভেড়া প্রভৃতি।

সেসময় পূনর্ভবা ছিল পূর্ন যৌবনা। এলাকার একমাত্র নদিপথ হিসেবে ব্যবহার করে অসংখ্য মানুষ ব্যবসায় বাণিজ্যের মাধ্যমে জীবন জীবিকার শক্ত ভীত গড়ে তুলেছিলেন। শুধু হাট বাজারই নয়, নদিটিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল অনেক জনপদ। এর পানি দিয়ে কৃষকরা দুই পাড়ের হাজার হাজার হেক্টর জমিতে সবুজ ফসল ধান ফলাতো। এই পানি দিয়ে নানা ফসলে ভরে উঠতো কৃষকের ক্ষেত। আবার ছোট বড় বিভিন্ন প্রজাতির মাছের অফুরন্ত উৎস ছিল এই পূনর্ভবা। মাছ পাওয়া যেত সারাবছর। ফলে জীবিকার সন্ধানে নদি সংলগ্ন ও পাশের গ্রামে অসংখ্য জেলে পরিবারের বসতি গড়ে উঠেছিল। জীবিকা নির্বাহের জন্য জেলেরা রাত দিন ডিঙি নৌকায় জাল নিয়ে চষে বেড়াতেন মাছ ধরার জন্য। মাছ বিক্রি করে অসংখ্য জেলে পরিবারের সংসার চলতো।

সময় গড়িয়ে চলার সথে সাথে সেই ভরা যৌবনা পূনর্ভবা এখন খেলার মাঠে পরিণত হয়েছে। খরার সময় বালু ছাড়া আর কিছুই দেখা যায়না এর তলদেশে। একারনেই আশেপাশের জেলে পরিবার হয়ে গেছে প্রায় বিলীন। নদির পাড় পরিনত হয়েছে কৃষি জমিতে। নদিগর্ভে জেগে উঠা চরে এলাকার শিশুরা খেলছে ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলা। এক সময়ের ব্যবসা বণিজ্যের উৎসগুলো হয়ে গেছে চিরতরে বন্ধ। থমকে গেছে নদি, নিভে গেছে বিপুল সম্ভবনা।

নদিকেন্দ্রীক সম্ভাবনা নিভে গেলেও কেউ কখনও এসব নিয়ে ভাবেননি। সরকারিভাবে নদিটি খননের পদক্ষেপ নেয়া হলে অন্তত সারাবছরই এতে পানি থাকতো। এতে কৃষকদের জমির ধানের উৎপাদন বেড়ে যেত। নদিটিও পরিনত হতো না বালুচরে। তাছাড়া নদিটি কখনও খনন বা রক্ষণাবেক্ষনের কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ফলে নদিটির পাড় ফসলের জমিতে পরিণত হয়েছে। এ সুযোগে অনেকেই ধান চাষ করছেন। খনন না করলে এক সময়ের উত্তাল পূনর্ভবা হয়তো বা মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে। সেইসঙ্গে পানির অভাবে জমিতে ফসল হবেনা বলে বিশিষ্টজনরা মনে করছেন। #

আপলোডকারীর তথ্য

সর্বোচ্চ পঠিত

পোরশায় পানি নেই পূনর্ভবায় ধু-ধু বালুচর<<মহাদেবপুর দর্পণ>>

প্রকাশের সময় : ১২:০৭:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ মার্চ ২০২৩

মহাদেবপুর দর্পণ, এম রইচ উদ্দিন, স্টাফ রিপোর্টার, পোরশা (নওগাঁ), ১৮ মার্চ ২০২৩ :

নওগাঁর পোরশা উপজেলার নিতপুর সীমান্ত দিয়ে বয়ে যাওয়া এক সময়ের উত্তাল পূনর্ভবায় পানি নেই। নাব্যতা হারিয়ে এখন বালুচরে পরিণত হয়েছে। ফলে ধু-ধু এ খরায় এর তলদেশ খেলার মাঠ হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। নদিতে পানি না থাকায় কয়েক হাজার হেক্টর জমির বোরো ধানের ক্ষতির আশংকা দেখা দিয়েছে।

নদিটিতে এক সময় ঢেউয়ের তালে চলাচল করতো অসংখ্য পাল তোলা নৌকা, লঞ্চ, ষ্টিমার। মাঝিরা নৌকা নিয়ে ছুটে চলতো গোমস্তাপুর, রহনপুর, নাচোল, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ দেশের অন্যান্য উপজেলার ব্যবসা কেন্দ্রগুলোতে। ওইসব উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠা বড় বড় হাট বাজারে ব্যবসার জন্য বিভিন্ন পন্য নিয়ে ব্যবসায়ীরা তাদের ছোট বড় নৌকায় পাল তুলে ছুটে চলতেন। শুধু পন্যই নয় হাটবাজারে বিক্রির জন্য তারা নিয়ে যেতেন গরু, মোষ, ছাগল, ভেড়া প্রভৃতি।

সেসময় পূনর্ভবা ছিল পূর্ন যৌবনা। এলাকার একমাত্র নদিপথ হিসেবে ব্যবহার করে অসংখ্য মানুষ ব্যবসায় বাণিজ্যের মাধ্যমে জীবন জীবিকার শক্ত ভীত গড়ে তুলেছিলেন। শুধু হাট বাজারই নয়, নদিটিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল অনেক জনপদ। এর পানি দিয়ে কৃষকরা দুই পাড়ের হাজার হাজার হেক্টর জমিতে সবুজ ফসল ধান ফলাতো। এই পানি দিয়ে নানা ফসলে ভরে উঠতো কৃষকের ক্ষেত। আবার ছোট বড় বিভিন্ন প্রজাতির মাছের অফুরন্ত উৎস ছিল এই পূনর্ভবা। মাছ পাওয়া যেত সারাবছর। ফলে জীবিকার সন্ধানে নদি সংলগ্ন ও পাশের গ্রামে অসংখ্য জেলে পরিবারের বসতি গড়ে উঠেছিল। জীবিকা নির্বাহের জন্য জেলেরা রাত দিন ডিঙি নৌকায় জাল নিয়ে চষে বেড়াতেন মাছ ধরার জন্য। মাছ বিক্রি করে অসংখ্য জেলে পরিবারের সংসার চলতো।

সময় গড়িয়ে চলার সথে সাথে সেই ভরা যৌবনা পূনর্ভবা এখন খেলার মাঠে পরিণত হয়েছে। খরার সময় বালু ছাড়া আর কিছুই দেখা যায়না এর তলদেশে। একারনেই আশেপাশের জেলে পরিবার হয়ে গেছে প্রায় বিলীন। নদির পাড় পরিনত হয়েছে কৃষি জমিতে। নদিগর্ভে জেগে উঠা চরে এলাকার শিশুরা খেলছে ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলা। এক সময়ের ব্যবসা বণিজ্যের উৎসগুলো হয়ে গেছে চিরতরে বন্ধ। থমকে গেছে নদি, নিভে গেছে বিপুল সম্ভবনা।

নদিকেন্দ্রীক সম্ভাবনা নিভে গেলেও কেউ কখনও এসব নিয়ে ভাবেননি। সরকারিভাবে নদিটি খননের পদক্ষেপ নেয়া হলে অন্তত সারাবছরই এতে পানি থাকতো। এতে কৃষকদের জমির ধানের উৎপাদন বেড়ে যেত। নদিটিও পরিনত হতো না বালুচরে। তাছাড়া নদিটি কখনও খনন বা রক্ষণাবেক্ষনের কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ফলে নদিটির পাড় ফসলের জমিতে পরিণত হয়েছে। এ সুযোগে অনেকেই ধান চাষ করছেন। খনন না করলে এক সময়ের উত্তাল পূনর্ভবা হয়তো বা মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে। সেইসঙ্গে পানির অভাবে জমিতে ফসল হবেনা বলে বিশিষ্টজনরা মনে করছেন। #