নওগাঁ ০৮:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ জুলাই ২০২৫, ১৯ আষাঢ় ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার :
মহাদেবপুর দর্পণ.কম ও সাপ্তাহিক মহাদেবপুর দর্পণের পরীক্সষমূলক সম্প্রচারে আপনাকে স্বাগতম ## আপামর মেহনতি মানুষের অকুন্ঠ ভালোবাসায় সিক্ত নওগাঁর নিজস্ব পত্রিকা ## নওগাঁর ১১ উপজেলার সব খবর সবার আগে ## মহাদেবপুর দর্পণ একবার পড়ুন, ভালো না লাগলে আর পড়বেন না ## যেখানে অনিয়ম সেখানেই মহাদেবপুর দর্পণ ## যেখানে দূর্নীতি, অন্যায়, অবিচার সেখানেই মহাদেবপুর দর্পণ সব সময় সাধারণ মানুষের পাশে ## মহাদেবপুর দর্পণের ফেসবুক আইডিতে ফলো দিয়ে সঙ্গেই থাকি ##

রাণীনগর-আত্রাইয়ের সেতুবন্ধন বাঁশের সাঁকো<<মহাদেবপুর দর্পণ>>

মহাদেবপুর দর্পণ, কিউ, এম, সাঈদ টিটো, নওগাঁ, ৩১ জানুয়ারী ২০২১ :

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার ঘোষগ্রাম-আন্ধারকোটা নামক স্থানে ছোট যমুনা নদীর ওপর দিয়ে চলাচলের জন্য এলাকাবাসীর উদ্যোগে বাশের সাঁকো নির্মাণ করায় রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলার মানুষের মাঝে যোগ হয়েছে নিবিড় সেতুবন্ধন।

আত্রাই উপজেলার বিল বেষ্টিত কালিকাপুর ইউপির অবহেলিত জনপদের মধ্যে আটগ্রাম, হরপুর, তারানগর, বাউল্লাপাড়া, ঝিয়াড়িগ্রাম, শলিয়া গ্রাম ও রাণীনগর উপজেলার কৃষ্ণপুর, মালঞ্চি, ঘোষগ্রাম, নান্দাইবাড়ি, বেতগাড়ী, ভবাণীপুর, কালিকাপুর গ্রামের প্রায় ৩ হাজার লোকের বসবাস হলেও যোগাযোগ ব্যবস্থার তেমন উন্নয়ন না হওয়ায় রাষ্ট্রের অনেক জরুরি সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন এই দুই উপজেলার কয়েক গ্রামবাসি।

যোগাযোগ ব্যবস্থার এই আধুনিকতার যুগে স্বাধীনতার ৫০ বছর পরেও নওগাঁর ছোট যমুনা নদীর ওপর দিয়ে পারাপারের জন্য নদীর ওপর একটি ব্রীজ নির্মাণের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বর্ষা মৌসুমে নৌকা এবং শুস্ক মৌসুমে বাঁশের সাাঁকোই তাদের চলাচলের ভরসা। ১০টি গ্রামের কৃষক-শ্রমিক, স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীরা বর্ষায় পড়েন চরম বেকায়দায়।

রাণীনগর উপজেলা সদর থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণে সীমান্ত ঘেষা ও আত্রাই উপজেলা সদর থেকে ১২ কিলোমিটার পশ্চিমে বয়ে গেছে নওগাঁর ছোট যমুনা নদী। বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে বছরের বেশি সময় ধরে বন্যার পানি চারিদিকে থৈ থৈ করে। তখন পারিবারিক প্রয়োজনে যাতায়াতের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়ায় ভাড়ায় চালিত নৌকা।
কিন্তু শুস্ক মৌসুমের শুরুতেই বিলের পানি কমতে থাকায় পানি-কাদায় একাকার হওয়ায় পায়ে হেঁটেই উপজেলার আটগ্রাম, হরপুর, তারানগর, বাউল্লাপাড়া, ঝিয়াড়িগ্রাম, শলিয়া গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষকে প্রয়োজনের তাগিদে জেলা ও উপজেলা সদরে যেতে হয়। নদীর নাব্যতা সংকটের কারণে নৌকা চলাচল বন্ধ থাকায় ঘোষগ্রাম-আন্ধারকোটা নামক স্থানে নদী পারাপারের জন্য একটি বাঁশের সাঁকোর উপরই ভরসা করতে হয়।

উপজেলার ওই গ্রামগুলোতে সবচেয়ে বেশি ইরি ধান উৎপাদন এলাকা হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত ধানসহ অন্যান্য কৃষি পন্যসামগ্রী সহজ ভাবে বাজারজাত করতে না পারায় নায্যমূল্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয়। অনেকটা বাধ্য হয়েই ফরিয়া ও মহাজনদের কাছে চলমান বাজার মূল্যের চেয়ে কমদামে কৃষি পন্য বিক্রি করতে হয়। এখানে একটি ব্রীজ নির্মাণের এলাকাবাসির দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি। কিন্তু ফিবছর প্রকল্প আসে প্রকল্প যায় এই এলাকাবাসির ভাগ্য উন্নয়নের কারো যেন মাথা ব্যাথা নাই।

আন্ধারকোটা গ্রামের সাহাদ আলী (৭০) মহিদুল ইসলাম (৪৫), কালিকাপুর গ্রামের রুহুল আমিন (৩৮) জানান, এখানে একটি ব্রীজ না থাকায় দুই পারের মানুষেরই চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিশেষ করে ইরি-বোরো মৌসুমে ধান কাটাসহ আনা নেওয়া খুব অসুবিধা হয়। তাই একটি ব্রীজ নির্মাণ করা হলে সবাই উপকৃত হবে।

কালিকাপুর ইউপি চেয়ারম্যান, নাজমুল হক নাদিম জানান, শলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ হতে অন্ধারকোটা পর্যন্ত পাকা সড়ক এবং ছোট যমুনা নদীর উপরে একটি ব্রীজ নির্মাণের জন্য যাচাই বাছাই ও পরীক্ষা নিরিক্ষা চলছে। ব্রীজটি নির্মাণ করা হলে ইউনিয়নবাসিসহ আশেপাশে বসবাসরত সর্বসাধারণের জীবন যাত্রার মান পাল্টে যাবে।#

আপলোডকারীর তথ্য

সর্বোচ্চ পঠিত

রাণীনগর-আত্রাইয়ের সেতুবন্ধন বাঁশের সাঁকো<<মহাদেবপুর দর্পণ>>

প্রকাশের সময় : ১০:২৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২১

মহাদেবপুর দর্পণ, কিউ, এম, সাঈদ টিটো, নওগাঁ, ৩১ জানুয়ারী ২০২১ :

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার ঘোষগ্রাম-আন্ধারকোটা নামক স্থানে ছোট যমুনা নদীর ওপর দিয়ে চলাচলের জন্য এলাকাবাসীর উদ্যোগে বাশের সাঁকো নির্মাণ করায় রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলার মানুষের মাঝে যোগ হয়েছে নিবিড় সেতুবন্ধন।

আত্রাই উপজেলার বিল বেষ্টিত কালিকাপুর ইউপির অবহেলিত জনপদের মধ্যে আটগ্রাম, হরপুর, তারানগর, বাউল্লাপাড়া, ঝিয়াড়িগ্রাম, শলিয়া গ্রাম ও রাণীনগর উপজেলার কৃষ্ণপুর, মালঞ্চি, ঘোষগ্রাম, নান্দাইবাড়ি, বেতগাড়ী, ভবাণীপুর, কালিকাপুর গ্রামের প্রায় ৩ হাজার লোকের বসবাস হলেও যোগাযোগ ব্যবস্থার তেমন উন্নয়ন না হওয়ায় রাষ্ট্রের অনেক জরুরি সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন এই দুই উপজেলার কয়েক গ্রামবাসি।

যোগাযোগ ব্যবস্থার এই আধুনিকতার যুগে স্বাধীনতার ৫০ বছর পরেও নওগাঁর ছোট যমুনা নদীর ওপর দিয়ে পারাপারের জন্য নদীর ওপর একটি ব্রীজ নির্মাণের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বর্ষা মৌসুমে নৌকা এবং শুস্ক মৌসুমে বাঁশের সাাঁকোই তাদের চলাচলের ভরসা। ১০টি গ্রামের কৃষক-শ্রমিক, স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীরা বর্ষায় পড়েন চরম বেকায়দায়।

রাণীনগর উপজেলা সদর থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণে সীমান্ত ঘেষা ও আত্রাই উপজেলা সদর থেকে ১২ কিলোমিটার পশ্চিমে বয়ে গেছে নওগাঁর ছোট যমুনা নদী। বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে বছরের বেশি সময় ধরে বন্যার পানি চারিদিকে থৈ থৈ করে। তখন পারিবারিক প্রয়োজনে যাতায়াতের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়ায় ভাড়ায় চালিত নৌকা।
কিন্তু শুস্ক মৌসুমের শুরুতেই বিলের পানি কমতে থাকায় পানি-কাদায় একাকার হওয়ায় পায়ে হেঁটেই উপজেলার আটগ্রাম, হরপুর, তারানগর, বাউল্লাপাড়া, ঝিয়াড়িগ্রাম, শলিয়া গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষকে প্রয়োজনের তাগিদে জেলা ও উপজেলা সদরে যেতে হয়। নদীর নাব্যতা সংকটের কারণে নৌকা চলাচল বন্ধ থাকায় ঘোষগ্রাম-আন্ধারকোটা নামক স্থানে নদী পারাপারের জন্য একটি বাঁশের সাঁকোর উপরই ভরসা করতে হয়।

উপজেলার ওই গ্রামগুলোতে সবচেয়ে বেশি ইরি ধান উৎপাদন এলাকা হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত ধানসহ অন্যান্য কৃষি পন্যসামগ্রী সহজ ভাবে বাজারজাত করতে না পারায় নায্যমূল্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয়। অনেকটা বাধ্য হয়েই ফরিয়া ও মহাজনদের কাছে চলমান বাজার মূল্যের চেয়ে কমদামে কৃষি পন্য বিক্রি করতে হয়। এখানে একটি ব্রীজ নির্মাণের এলাকাবাসির দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি। কিন্তু ফিবছর প্রকল্প আসে প্রকল্প যায় এই এলাকাবাসির ভাগ্য উন্নয়নের কারো যেন মাথা ব্যাথা নাই।

আন্ধারকোটা গ্রামের সাহাদ আলী (৭০) মহিদুল ইসলাম (৪৫), কালিকাপুর গ্রামের রুহুল আমিন (৩৮) জানান, এখানে একটি ব্রীজ না থাকায় দুই পারের মানুষেরই চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিশেষ করে ইরি-বোরো মৌসুমে ধান কাটাসহ আনা নেওয়া খুব অসুবিধা হয়। তাই একটি ব্রীজ নির্মাণ করা হলে সবাই উপকৃত হবে।

কালিকাপুর ইউপি চেয়ারম্যান, নাজমুল হক নাদিম জানান, শলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ হতে অন্ধারকোটা পর্যন্ত পাকা সড়ক এবং ছোট যমুনা নদীর উপরে একটি ব্রীজ নির্মাণের জন্য যাচাই বাছাই ও পরীক্ষা নিরিক্ষা চলছে। ব্রীজটি নির্মাণ করা হলে ইউনিয়নবাসিসহ আশেপাশে বসবাসরত সর্বসাধারণের জীবন যাত্রার মান পাল্টে যাবে।#